সিদ্ধিরগঞ্জে আলপনা নিগাত আখি এক ভয়ংকর প্রতারকের নাম। তার প্রতারণার শিকার প্রবাসী, ব্যবসায়ী, সরকারি চাকরিজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার লোকজন। চেহারায় আধুনিকতার ছাপ আর কথায় সুমিষ্ট মায়ার বেড়াজালে ফেলে তাদের প্রথমে প্রেম ও পরে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। তার এ কান্ডে বহু মানুষ সর্বস্ব হারিয়ে পথের ফকির।
প্রথম দেখায় যে কেউ তাকে উচ্চবিত্ত মার্জিত নারী মনে করতে বাধ্য। কিন্তু এই সৌন্দর্যের আড়ালেই লুকিয়ে আছে এক ভয়ংকর প্রতারণার জাল। নির্দিষ্ট কোনো পেশা না থাকলেও চলাফেরায় রাজকীয় আভিজাত্য। মানুষের সরলতাকে পুঁজি করে প্রবাসী, ব্যবসায়ী, সরকারি চাকরিজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার লোকজনকে প্রেমের ফাঁদে ফেলা এবং পরবর্তীতে ব্ল্যাকমেল করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়াসহ ফেসবুক থেকে বেডরুম পর্যন্ত তার মূল নেশা ও পেশা।
অভিযোগ রয়েছে, আখির সাথে দেশের বিভিন্ন প্রশাসন ও রাজনীতিবিদদের সাথে রয়েছে গভীর সখ্যতা। আখির বিরুদ্ধে গত কয়েক দিন আগে পত্রিকাসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলে নেটিজেনরা তাকে ও তার পরিবারকে নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য করতে দেখা যায়।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, আখি তার ফেসবুক প্রোফাইলে বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গির বিনোদনময়ী ছবি দিয়ে প্রথমে টার্গেট করা পুরুষদের আকৃষ্ট করে। এরপর গড়ে তোলে কথিত প্রেমের সম্পর্ক। সখ্যতা গভীর হলে তাদের সিদ্ধিরগঞ্জের নির্দিষ্ট এলাকায় ডেকে এনে কৌশলে “ট্র্যাপে” ফেলে আপত্তিকর ছবি তুলে, আবার কখনো বিয়ের মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে আদায় করে মোটা অঙ্কের টাকা। তার এই কৌশলী চালের শিকার হয়ে অনেক প্রবাসী, ব্যবসায়ী ও চাকরিজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার লোকজন আজ পথের ফকির। আখির দেশের বিভিন্ন নাইট ক্লাবে যাতায়াত রয়েছে এবং ক্লাবে তার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বন্ধু রয়েছে বলে জানা যায়। আখিকে মধ্যরাতের একেক সময় একেক গাড়িতে করে নামিয়ে দিতে দেখা যায়। গাড়ি থেকে নেমে মাতাল অবস্থায় বাসার সামনে উল্টোপাল্টা আচরণ করে। আখির বাবা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) ছিলেন, তখন থেকেই আখির চলাফেরা ছিল বেপরোয়া। একজন এসআই-এর মেয়ে হয়ে কীভাবে সে উচ্চবিলাসী জীবনযাপন করে? তার তো নেই কোনো চাকরি, নেই কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।
আখির ব্যক্তিগত জীবনের ইতিহাস আরও ভয়ংকর। সিদ্ধিরগঞ্জের ৪ নং ওয়ার্ড শিমরাইল টেকপাড়া এলাকার জসিমের সাথে তার বৈবাহিক জীবন শুরু হলেও পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ে “রনি সিটি”র মালিক রনির সাথে। স্বামী জসিম বিষয়টি জানতে পেরে তাকে তালাক দিয়ে বিদেশে পাড়ি জমান। অন্যদিকে সে রনিকে বিয়ে করে। বিয়ের মাত্র সাত মাসের মাথায় রনির কাছ থেকে প্রায় ৪৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে রনির সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে এই বহুরূপী নারী।
আখি প্রবাসী, ব্যবসায়ী, সরকারি চাকরিজীবী, রাজনীতিবিদ ও বড়লোকের ছেলেদের সাথে প্রথমে প্রেমের লীলাখেলা শুরু করে দামি গিফট, ব্যাংক ও বিকাশের মাধ্যমে টাকা আনা শুরু করে। প্রেম যখন গভীর হয়, তখন তাদেরকে নিজ এলাকায় কৌশলে ডেকে এনে “ট্র্যাপে” ফেলে আপত্তিকর ছবি তুলে, আবার কখনো বিয়ের মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে আদায় করে মোটা অঙ্কের টাকা। এই অপরাধ সাম্রাজ্য টিকিয়ে রাখতে আখি ব্যবহার করে রাজনৈতিক ঢাল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু অসাধু সদস্য ও রাজনৈতিক নেতাদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলে সে নির্বিঘ্নে অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। নিজেকে আড়াল করতে প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় মাদক সেবন এবং সঙ্গীদেরও মাদকাসক্ত করে ভিডিও ধারণ করার মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ফলে ভুক্তভোগীরা ভয়ে মুখ খোলার সাহস পায় না।
আখির এই বেপরোয়া কর্মকাণ্ডে সামাজিক অবক্ষয় চরমে পৌঁছেছে। তার কারণে অনেক পরিবারে নেমে এসেছে হাহাকার। ভুক্তভোগীদের দাবি, অতি দ্রুত এই নারী প্রতারককে আইনের আওতায় আনা না হলে ধ্বংস হয়ে যাবে আরও অনেক সাজানো সংসার ও তরুণের ভবিষ্যৎ।
এ ব্যাপারে আখির সাথে যোগাযোগ করতে তাকে কল করলে রিনি তা রিসিভ করেনি।