জ্বালানি তেল সংকটে নারায়ণগঞ্জে সেন্ট্রাল খেয়া ঘাটে ট্রলার চলাচলে সংকট দেখা দিয়েছে। এতে করে আগামী শনিবার দুপুরের মধ্যে জ্বালানি তেলের চাহিতা মেটাতে না পারলে বন্ধ হবে ট্রলার চলাচল। যার ফলে ভোগান্তিতে পরবে লাখ লাখ যাত্রী।
জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ শহর ও বন্দরের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপনকারী সবচেয়ে ব্যস্ততম ঘাট হচ্ছে সেন্ট্রাল খেয়া ঘা। এই ঘাট দিয়ে প্রতিদিন প্রায় লক্ষাধিক যাত্রী যাতায়াত করে। যাত্রী সেবার জন্য ৭-৮টি ট্রলার সার্ভিস চালু রয়েছে। এসব ট্রলার চলাচলের প্রায় ১৩৫ থেকে ১৫০ লিটার ডিজেল তেলের প্রয়োজন পড়ে। তবে সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে তেল সংকট দেখা দিয়েছে এ দেশে। যার ফলে নারায়ণগঞ্জে ফিলিং স্টেশন থেকে শুরু করে সর্বস্তরে তেল সংকট দেখা দিয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ সেন্ট্রাল খেয়া ঘাটের ইনচার্জ ও সেন্ট্রাল ফেরি ঘাটের ইজারাদার দিদার খন্দকার বলেন, খেয়া ঘাটে ট্রলার চলাচলের জন্য প্রতিদিন ১৩৫-১৫০ লিটার ডিজেল তেলের প্রয়োজন হয়। কিন্তু মধ্যপ্রার্চের যুদ্ধের কারণে বাংলাদেশে তেলের সংকট পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। ফলে তেলের তীব্র সংকটে পড়েছি। আগে জাহাজ থেকে ডিজেল সংগ্রহ করেছি। কিন্তু এখন জাহাজে তেল নেই। এছাড়া লঞ্চ ঘাট থেকেও তেল সংগ্রহ করতাম কিন্তু এখন সেখানেও তেল নেই। এছাড়া বলাকা পাম্পে তেল নেই। প্রান্তিক পাম্প থেকে কিছুক্ষণ আগে ৫০ লিটার তেল কিনেছি, এটুকু তেল দিয়ে আগামীকাল দুপুর পর্যন্ত চলবে। এরপর তেল সংগ্রহ করতে না পারলে আগামীকাল দুপুরের পর থেকে ট্রলার চলাচল বন্ধ থাকবে।
তিনি আরও বলেন, এ জন্য জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন, বিআইডবিøউটিএ, সদর থানা ও নৌ থানার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। তাদের সহযোগিতা কামনা করছি।
যাত্রীরা বলছেন, ট্রলারের যাত্রী প্রতি ২ টাকা ভাড়া। এর বিপরীতে নৌকায় যাত্রী প্রতি ৫ থেকে ১০ টাকা ভাড়া গুণতে হয়। ফলে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ ও শ্রমিকদের জন্য অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে নৌকায় যাতায়াত করা প্রায় অসম্ভব। তবে জ্বালানি সংকটের কারণে ট্রলার চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে বাধ্য হয়ে সবাইকে নৌকা দিয়ে নদী পারপার হতে হবে।
বন্দরের র্যালী আবাসিক এলাকার বাসিন্দা জামান মিয়া বলেন, “এ ঘাট দিয়ে প্রতি দিন অনেক মানুষ যাতায়াত করে। এদের অধিকাংশই কর্মজীবী, খেটে-খাওয়া শ্রমিক। তারা ২ টাকা দিয়ে ট্রলার পার হয়। কিন্তু ট্রলার বন্ধ থাকলে ৫টাকা কিংবা ১০ টাকা দিয়ে নৌকায় করে নদী পারাপার হতে বাধ্য হবে। এছাড়া নৌকার ঘাটে যাত্রীদের চাপও বাড়বে।
এ বিষয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এসএম ফয়েজ উদ্দিন বলেন, “এ ব্যাপারে ইজারাদার স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে কিছু বলেননি। উনি বিআইডবিøউটিএ’কেও বিষয়টি জানালে তারা যাত্রী সাধারণের সুবিধার্থে তারাই ব্যবস্থা করবেন। তারপরও বিষয়টি আমরা খোঁজখবর নিচ্ছি।”
নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের যুগ্ম পরিচালক মোহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, “আমাকে অবগত করা হয়নি এখনো। ডিজেলের তো সংকট ওই ভাবে নেই। তারপরও প্রয়োজনে এ বিষয়ে আমরা প্রশাসন ও পাম্পে চিঠি দেবো, সুপারিশ করবো। এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে আমরা বিকল্প ব্যবস্থা করবো।”