নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় নির্মাণাধীন একটি বাড়ির পানির ট্যাংকিতে নেমে দেলোয়ার মৃধা (৩৫) ও রানা (২২) নামে দুই শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) দুপুরে ফতুল্লার ভোলাইল গেইদ্দার বাজার এলাকায় মো. লালন মিয়ার নির্মাণাধীন বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন-পটুয়াখালির বাউফল উপজেলার ভাংরা গ্রামের আলতাফ মৃধার ছেলে দেলোয়ার মৃধা এবং গাইবান্ধার পলাশবাড়ি উপজেলার আব্দুর রহিমের ছেলে রানা মিয়া। তারা পরিবার নিয়ে ভোলাইল এলাকাতে ভাড়া বাসায় থাকতেন। দেলোয়ার পেশায় একজন রাজমিস্ত্রী এবং রানা পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। ছুটির দিন হওয়াতে দেলোয়ারের সঙ্গে রাজমিস্ত্রীর কাজে এসেছিলেন।
ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় স‚ত্রে জানা যায়, পানির ট্যাংকির সেন্টারিং খোলার কাজ করতে গিয়ে প্রথমে দেলোয়ার মৃধা ট্যাংকির ভেতরে প্রবেশ করেন। তার কোন সাড়াশব্দ না পেয়ে কিছুক্ষণ পর অপর শ্রমিক রানা ট্যাংকির ভেতরে প্রবেশ করেন। তবে তারও কোন সাড়াশব্দ পাওয়া যায় না। এতে আশেপাশের লোকজন ফায়ার সার্ভিসকে খবর দিলে সচেতন অবস্থায় তাদের দুজনকে উদ্ধার করে। পরে তাদের নারায়ণগঞ্জের খানপুর ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে নিলে গেলে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেন ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম বলেন, নির্মাণাধীন ভবনে কাজ করার সময় পানি ধারণের জন্য তৈরি ট্যাংকের ভেতর ঢুকে অচেতন হয়ে পড়েন ওই দুই ব্যক্তি। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা তাদের ট্যাংকের ভেতর থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান। সেখানে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাদের মৃত বলে ঘোষণা করেন।
নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরিফিন বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ট্যাংকির ভেতরে জমে থাকা বিষাক্ত গ্যাসের কারণে তাদের মৃত্যু হয়েছে। বিষয়টি আরও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক শাহাদাত হোসেন বলেন, “হাসপাতালে আসার আগেই তাদের মৃত্যু হয়েছে। অক্সিজেনের কমিতেত শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মারা গেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।”