বিশ্বকাপ ফুটবল মানেই মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি ভবিষ্যৎবাণীরও এক অন্যরকম প্রতিযোগিতা। প্রযুক্তির যুগে যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সুপার কম্পিউটার কোটি কোটি তথ্য বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য চ্যাম্পিয়নের নাম বলছে, সেখানে জ্যোতিষী ও বিভিন্ন প্রাণীর মাধ্যমে ম্যাচের ফল অনুমানের চর্চাও সমানভাবে আলোচনায় রয়েছে।
গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় রাউন্ড শেষে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ক্রীড়া পরিসংখ্যান সংস্থার সর্বশেষ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, শিরোপা জয়ের দৌড়ে এগিয়ে রয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স, দলগত সমন্বয়, গোল করার হার এবং প্রতিপক্ষের শক্তি বিবেচনায় নিয়ে সুপার কম্পিউটার আর্জেন্টিনাকেই সবচেয়ে সম্ভাব্য চ্যাম্পিয়ন হিসেবে দেখছে। তালিকায় তাদের পরেই রয়েছে নেদারল্যান্ডস।
অন্যদিকে, জ্যোতিষীদের ভবিষ্যৎবাণী ভিন্ন চিত্র তুলে ধরছে। কয়েকজন ইউরোপীয় জ্যোতিষীর দাবি, গ্রহ-নক্ষত্রের অবস্থান এবং সংখ্যাতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী এবারের শিরোপা ইউরোপের কোনো দেশের ঘরে যেতে পারে। এমনকি পর্তুগালের মতো দলকেও সম্ভাব্য চমক হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে।
ফুটবলবিশ্বে প্রাণীর মাধ্যমে ম্যাচের ফল অনুমানের বিষয়টিও নতুন নয়। ২০১০ বিশ্বকাপে ‘পল দ্য অক্টোপাস’-এর সাফল্যের পর থেকে বিভিন্ন টুর্নামেন্টে প্রাণীদের ভবিষ্যৎবাণী নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। এবারও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন প্রাণীর ‘পছন্দ’ ঘিরে চলছে আলোচনা।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, সুপার কম্পিউটারের বিশ্লেষণ পরিসংখ্যানভিত্তিক হলেও ফুটবল এমন একটি খেলা, যেখানে যেকোনো মুহূর্তে বদলে যেতে পারে ম্যাচের চিত্র। ইনজুরি, লাল কার্ড, কৌশলগত পরিবর্তন কিংবা একটি ভুল সিদ্ধান্তও উল্টে দিতে পারে সব হিসাব-নিকাশ।
তাই বিশ্বকাপের আসল উত্তর লুকিয়ে আছে মাঠের ৯০ মিনিটেই। সুপার কম্পিউটারের তথ্যভিত্তিক পূর্বাভাস কিংবা জ্যোতিষীদের ভবিষ্যৎবাণী— শেষ পর্যন্ত কোনটি সত্যি হবে, তা জানতে ফুটবলপ্রেমীদের অপেক্ষা করতে হবে টুর্নামেন্টের শেষ বাঁশি পর্যন্ত।