1. voiceofnarayanagnj24@gmail.com : Salim Ahmed Dalim : Salim Ahmed Dalim
  2. info@ajkerdeshkantho.com : Rabbi630 :
এনসিপির মেয়র-চেয়ারম্যান চূড়ান্ত, কাউন্সিলর খুঁজবে অনলাইনে - Ajker Deshkantho
শনিবার, ৩০ মে ২০২৬, ১০:৫৮ পূর্বাহ্ন

এনসিপির মেয়র-চেয়ারম্যান চূড়ান্ত, কাউন্সিলর খুঁজবে অনলাইনে

স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশিত : বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ জেলার পাঁচটি আসনের মাত্র একটিতে জয় পেয়েছিল গণঅভ্যুত্থানের পর তরুণদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা রাজনৈতিক জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। কিন্তু, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিশেষ নজর দিয়ে ইতোমধ্যে সাংগঠনিক প্রস্তুতি জোরদার করেছে দলটি। সংসদ নির্বাচনে একটি আসনে জয়ের ওই রাজনৈতিক ভিত্তিকে কাজে লাগিয়ে সিটি করপোরেশন, উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে শক্ত অবস্থান গড়ার প্রত্যাশা করছেন দলটির নেতারা।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এরই মধ্যে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের জন্য মেয়র প্রার্থী ও কয়েকটি ওয়ার্ডে সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়া প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। পাশাপাশি সোনারগাঁও ও রূপগঞ্জসহ কয়েকটি উপজেলায় চেয়ারম্যান প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে কিছু ক্ষেত্রে প্রার্থী চূড়ান্তের পাশাপাশি নতুন মুখ খোঁজার প্রক্রিয়াও চালু রেখেছে দলটি, যাতে শক্তিশালী ও প্রতিযোগিতামূলক প্রার্থী দাঁড় করানো যায়। এক্ষেত্রে অনলাইনে প্রচারণার কথাও ভাবছেন এনসিপির নেতারা।

নারায়ণগঞ্জ মহানগর এনসিপির আহ্বায়ক শওকত আলী প্রেস নারায়ণগঞ্জকে বলেন, তারা নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। ইতোমধ্যে মেয়র ও কয়েকজন সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থী চূড়ান্তও করেছেন। বাকি কাউন্সিলর প্রার্থীদের জন্য ‘ওপেন কল’ থাকবে, অর্থ্যাৎ আগ্রহীরা এনসিপির সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাদের সুযোগ দেওয়ার কথাও ভাবছেন। এমনকি দলছুট নেতারাও। তবে, এক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ ও তাদের সহযোগীদের কোনো সুযোগ থাকবে না।

শওকত নিজেই নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র পদে নির্বাচন করতে আগ্রহী। তিনি বলেন, “কেউ যদি এনসিপি থেকে কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করতে চান, তাহলে আমাদের সাথে যেন যোগাযোগ করেন। আমাদের নিজেদেরও প্রস্তুতি রয়েছে। তবে, বাইরের কাউকে যদি পাই বা অন্য দলের কেউ হলেও তাকে সুযোগ দিবে এনসিপি। কিন্তু আওয়ামী লীগ ও তাদের দোসররা ছাড়া।”

আগ্রহীদের জন্য আগামী ১৫ মে থেকে অনলাইনে প্রচারণা চালানোর কথাও দলটি ভাবছে বলে জানান এনসিপির এ নেতা।

দলটির আরও কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কেবল সিটি করপোরেশন নয়, উপজেলা নির্বাচন নিয়েও প্রস্তুতি আছে দলটির। এ জেলায় পাঁচটি উপজেলা থাকলেও সাংগঠনিক সক্ষমতার ভিত্তিতে সোনারগাঁ ও রূপগঞ্জ উপজেলায় দু’জন সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু আড়াইহাজারে তা করা যায়নি। অন্যদিকে, বন্দর উপজেলার চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে একাধিক ব্যক্তির নাম প্রস্তাব এসেছে, তাদের মধ্যে অন্য রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকা নেতাও রয়েছে। তবে, এ ব্যাপারে এখনো চূড়ান্ত হওয়া যায়নি।

এদিকে, সদর উপজেলা নিয়ে সীমানা জটিলতা তৈরি হওয়ায় এটি আপাতত হিসেবের বাইরে থাকছে। কেননা, সদর উপজেলার বেশ কয়েকটি ইউনিয়ন কিংবা তার অংশ নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনে যুক্ত হওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

শওকত আলী বলেন, “সদর ও ফতুল্লা যেহেতু সিটি করপোরেশনে যুক্ত হবে এমনটা মনে করা হচ্ছে, তাই সেটা নিয়ে আমরা একটু অপেক্ষায় আছি। কিন্তু এই দুই জায়গাতেই আমাদের প্রার্থী আছে, শুধু নাম ঘোষণা করছিনা আপাতত।”

দলটির নেতাদের ভাষ্যমতে, পুরো জেলার মধ্যে সদর ও ফতুল্লা অঞ্চলে এনসিপির সাংগঠনিক শক্তি সবচেয়ে বেশি। এ অঞ্চল থেকেই তারা একমাত্র সংসদ সদস্যকে বিজয়ী করে আনতে পেরেছেন। যদিও জোট সমঝোতার কারণে বাকি আসনগুলোতে তারা প্রার্থী দিতে পারেনি। ফলে, ফতুল্লা অঞ্চলে তাদের একাধিক প্রার্থীর নামও প্রস্তাবনায় আসছে। এমনকি, সাধারণ মানুষের মধ্যে দলটির গ্রহণযোগ্যতা ইতোমধ্যে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রতিফলিত হবে বলে মনে করছেন দলটির নেতারা।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে তরুণ শিক্ষিত সমাজের প্রতিনিধি, অবসরপ্রাপ্ত আমলা, শিক্ষক, নারী ও মুক্তিযোদ্ধা, জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহত কিংবা তাদের পরিবারের সদস্যদের অগ্রাধিকার দেবে এনসিপি। শীঘ্রই স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলটির সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হবে বলেও জানালেন কয়েকজন নেতা।

এনসিপি’র জেলা কমিটির আহবায়ক যুবাইর আহমেদ বলেন, “স্থানীয় সরকার গ্রাম ও শহরের উন্নয়নের প্রধান পন্থা। তাই এই স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে জনগণের অংশগ্রহণমূলক ও স্বচ্ছ নির্বাচনের মাধ্যমে শক্তিশালী করতে চায় এনসিপি। অবসরপ্রাপ্ত আমলা, শিক্ষক, তরুণ সমাজ, নারী সমাজ, জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদ ও আহত পরিবার এবং মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যরা যদি আমাদের দলের হয়ে সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রতিতিধিত্ব করতে চায় তাহলে তারা আসতে পারবে।”

তবে, প্রস্তুতির সঙ্গে শঙ্কাও রয়েছে দলটির নেতাদের। তাদের অভিযোগ, বিগত সরকারের মতো বিএনপিও তাদের দলীয় লোকদের স্থানীয় পর্যায়ে নিয়োগ দিচ্ছে। যা আগের মতো ‘দখলদারিত্বের’ অংশ বলে মনে করছে এনসিপি। এমনকি এর প্রভাব আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও পড়বে। সরকারি দলের নেতাদের পক্ষে ইতোমধ্যে প্রশাসনিক লোকজন অতিরিক্ত সুবিধা দিচ্ছেন বলেও জানাচ্ছেন এনসিপির নেতারা।

বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনেও এমন অভিযোগ তোলেন এনসিপি নেতা যুবাইর বলেন, “জেলা পরিষদ ও সিটি কর্পোরেশনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে তাদের দলীয় লোকের আনাগোনায় এক ধরনের দখলদারিত্বের চেহারা নিয়েছে। যা জনগণ কোনোভাবেই মেনে নেবে না। বিএনপি সরকার বারবার বলছে- জাতীয় নির্বাচনের পর স্থানীয় সরকার নির্বাচন করবে। কিন্তু তিন মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ আমরা দেখতে পাইনি। উল্টো তারা স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিজেদের দলীয় লোকদের প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে পুরোপুরি দলীয়করণ করছে।”

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন
© ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | দৈনিক আজকের দেশকন্ঠ
পোর্টাল বাস্তবায়নে : আজকের দেশকন্ঠ আইটি