রকমত ডাকাতের ভাতিজাকে ঘিরে নতুন করে আতঙ্কে ফতুল্লা, নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার অপরাধ জগতের ইতিহাসে রখমত ডাকাত নামটি একসময় ছিল আতঙ্কের প্রতীক। ফতুল্লার নয়ামাটি এলাকাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে ডাকাতি, অস্ত্রের মহড়া, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে তিনি স্থানীয়ভাবে কুখ্যাত হয়ে ওঠেন। এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, রকমত ডাকাতের প্রভাবের কারণে একসময় সাধারণ মানুষ সন্ধ্যার পর ঘর থেকে বের হতেও ভয় পেত। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে একাধিক গুরুতর অপরাধের অভিযোগ ওঠে। পরবর্তীতে তার মৃত্যুর পর এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে বলে স্থানীয়রা দাবি করেন।
কিন্তু স্থানীয়দের অভিযোগ, রকমত ডাকাতের মৃত্যুর পর সেই অপরাধচক্রের প্রভাব শেষ হয়নি। বরং তারই আপন ভাতিজা খালিদ হাসান রবিন ওরফে পিস্তল রবিনকে ঘিরে নতুন করে অপরাধের একটি নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ফতুল্লা থানার কাঠেরপুল, কুতুবআইল, জালকুড়ি ও আশপাশের এলাকায় গত কয়েক মাস ধরে রবিন ও গুলজার বাহিনীর সদস্যরা মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস এবং ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছে। এই বাহিনীর সঙ্গে খান বাহাদুর, মিঠু, শান্ত, আহাদ, ফারুক ও বাপ্পিসহ আরও কয়েকজনের নাম স্থানীয়ভাবে আলোচনায় রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে নিয়মিত চাঁদা দাবি, এলাকায় প্রকাশ্যে আধিপত্য বিস্তার এবং প্রতিবাদকারীদের হুমকি দেওয়ার মতো ঘটনায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ। সম্প্রতি এক বিএনপি নেতার বাড়িতে হামলার ঘটনাতেও রবিন বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, রবিন দীর্ঘদিন ধরে ফতুল্লার বিভিন্ন এলাকায় অস্ত্র ও পাইকারি মাদক সরবরাহের সঙ্গে জড়িত। অভিযোগ অনুযায়ী, সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে অস্ত্র, ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন মাদক এনে নিজস্ব নেটওয়ার্কের মাধ্যমে খুচরা বিক্রেতাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে অবৈধ অস্ত্র কেনাবেচার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
২০২৩ সালের নভেম্বরে নারায়ণগঞ্জ জেলা কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের অভিযানে খালিদ হাসান রবিনকে দুটি বিদেশি পিস্তল ও ১০ রাউন্ড গুলিসহ গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ সে সময় জানায়, রবিনের বিরুদ্ধে অস্ত্রসহ একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
এছাড়াও রবিনের বিরুদ্ধে ফতুল্লা, ঢাকা ও নরসিংদীর বিভিন্ন থানায় মাদক ও অস্ত্র আইনে একাধিক মামলা রয়েছে এবং ২০১৩ সাল থেকে বিভিন্ন সময়ে তিনি গ্রেপ্তারও হয়েছেন।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, মাদক ও অস্ত্র ব্যবসা থেকে অর্জিত অর্থ দিয়ে ফতুল্লার জালকুড়ি এলাকায় বহুতল ভবন নির্মাণ এবং কেরানীগঞ্জ এলাকায় জমি ও ফ্ল্যাট কেনা হয়েছে। তবে এসব সম্পদের উৎস সম্পর্কে সরকারি কোনো তদন্তের ফলাফল প্রকাশিত হয়নি।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কিছুদিন আত্মগোপনে থাকলেও চলতি বছরে রবিন আবার এলাকায় সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। সাম্প্রতিক সময়েও ফতুল্লায় মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে রবিন গ্রুপকে ঘিরে সংঘর্ষ ও উত্তেজনার খবর প্রকাশিত হয়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে একই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে মাদক, অস্ত্র ও চাঁদাবাজির অভিযোগ, একাধিক মামলা এবং গ্রেপ্তারের ঘটনা সামনে এলেও যদি তিনি প্রকাশ্যে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যেতে পারেন, তাহলে বিষয়টি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্যও উদ্বেগের।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহদী জানান, অপরাধী যেই হোক কোন ছাড় দেওয়া হবেনা। আমরা নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছি দ্রুত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে।