নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ঝুট ব্যবসা কেন্দ্রিক বিরোধকে ঘিরে যুবদলের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে শিশুসহ অন্তত দুইজন গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা ঘটলেও এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ঘটনার কয়েকদিন পেরিয়ে গেলেও জড়িতদের কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এতে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।
ঘটনার পর সংগঠনের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা হিসেবে ফতুল্লা থানা যুবদলের আহ্বায়ক মাসুদুর রহমান মাসুদকে যুবদল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক।
নারায়ণগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) তারেক আল মেহেদী জানান, ফতুল্লার ঘটনার পরে আমরা বিশেষ করে কঠোর নজরদারি ব্যবস্থা করেছি এর সাথে তদন্ত চলছে কারা এই অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার করছে। এবং এই ঘটনার পরে আসল অপরাধীদের শনাক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার ফতুল্লার চাঁদনী হাউজিং এলাকায় ‘বেস্ট স্টাইল কম্পোজিট লিঃ’ নামের একটি পোশাক কারখানার ঝুট (ওয়েস্টেজ) ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধের জেরে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। দীর্ঘদিন ধরে কারখানার ঝুট মালামাল নিয়ে বিভিন্ন গ্রুপের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছিল।
অভিযোগ রয়েছে পাঁচ আগস্টের পর থেকে ওই কারখানার ঝুট ব্যবসা পরিচালনা করছিলেন জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনির অনুসারী সালাম। এ নিয়ে বিরোধে জড়িয়ে পড়ে অন্য একটি গ্রুপ। বৃহস্পতিবার সকালে সেই বিরোধ চরমে পৌঁছালে ফতুল্লা থানা যুবদলের নেতা মাসুদের নেতৃত্বে একদল সেখানে হামলা চালায় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয়রা জানান, এর আগেও ওই এলাকায় চাঁদা দাবির অভিযোগ ছিল।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, সংঘর্ষ চলাকালে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ককটেল বিস্ফোরণ এবং গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। অভি-মনির গ্রুপের সশস্ত্র লোকজন কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে। এক পর্যায়ে গুলিবিদ্ধ হন রাকিব (২৩), যিনি স্থানীয় বিএনপি নেতা হোসেন খোকার ছেলে। পরে রাসেল মাহমুদের নেতৃত্বে আরেকটি গ্রুপ এলাকায় প্রবেশ করে গুলি চালালে ১১ বছর বয়সী শিশু ইমরান গুলিবিদ্ধ হয়।
এ ঘটনায় স্থানীয় বিএনপি নেতা রফিক (৪০)সহ আরও কয়েকজন আহত হন। পরে এলাকাবাসী দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে খানপুর ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে যান। আহতদের মধ্যে শিশুটি গুরুতর হওয়ায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনার সময় পুরো চাঁদনী হাউজিং এলাকা রীতিমতো রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। বাসিন্দারা জানান, গোলাগুলি ও বিস্ফোরণের শব্দে আতঙ্কিত হয়ে মানুষজন জীবন বাঁচাতে ছোটাছুটি শুরু করে। আশপাশের ব্যবসায়ীরা দ্রুত দোকানপাট বন্ধ করে দেন।
এনায়েতনগর ইউনিয়নের বিএনপি নেতা হোসেন খোকা অভিযোগ করে বলেন, তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই প্রতিপক্ষ গ্রুপ সেখানে অবস্থান নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীদের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র ছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
এদিকে এত বড় সংঘর্ষ ও গুলিবর্ষণের ঘটনার পরও এখন পর্যন্ত মামলা দায়ের বা কাউকে গ্রেপ্তারের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত জড়িতদের আইনের আওতায় এনে এলাকায় স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে হবে।