নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ গোদনাইল এলাকায় অর্গানিক নিট ওয়্যার নামে একটি নিটিং কারখানার অংশিদারদের সাথে প্রতারণা করে পাওয়া টাকা ও প্রতিষ্ঠানের মেশিনারিজ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একেএম ইব্রাহিম খন্দকার নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ আদালতে মামলা দায়ের করেছের ভুক্তভোগী মো. মানিক মিয়া।
ভুক্তভোগী বাদী হলেন- সিদ্ধিগঞ্জের কাঞ্চন এলাকার মৃত জয়নাল আবেদীন এলাকার মো. মানিক মিয়া(৪৮)। সাক্ষীরা হলেন- মো. ওমর ফারুক, শাহ আলম, আমির হোসেন, মো. স্বাধীন, মো. কাশেম মেম্বার, মিয়া মো. আব্দুল্লাহ সজিব, মো. মাসুম।
বিবাদী হলেন- সিদ্ধিরগঞ্জের গোদনাইল ভূইয়া পাড়া এলাকার আব্দুল আউয়াল খন্দকারের ছেলে মো. একেএম ইব্রাহিম খন্দকার (৭০)।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, সিদ্ধিরগঞ্জ গোদনাইল এলাকায় অর্গানিক নিট ওয়্যার নামে একটি নিটিং কারখানা চার জন পার্টনার মিলে শুরু করে। চারজন পার্টনারের মধ্যে চতুর্থ নম্বর পার্টনার হিসেবে ছিলেন প্রতারক, বিশ্বাসভঙ্গকারী ও চতুর ইব্রাহিম খন্দকার। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনার জন্য জায়গা ভাড়া নিতে স্থান খুঁজতে শুরু করলে বিবাদী ইব্রাহিম তার জায়গা ভাড়া নেওয়ার প্রস্তাব করে। পরে ২ লাখ টাকা জামানতে সাত বছরের চুক্তিতে জমিটি ভাড়া নেয় বাদী সহ ব্যবসায়ের তিন পার্টনার। এই ব্যবসায় গত ৬ মার্চ ২০২৫ ইং পর্যন্ত ৫৪ লাখ ৫ হাজার দুইশত সাতানব্বই টাকা বিনিয়োগ বাবদ খরচ হয়েছে, যা জন প্রতি ১৩ লাখ ৫১ হাজার তিনশ চব্বিশ টাকা বিনিয়োগ হয়েছে। সে হিসেবে তিন জন পার্টনারের অংশে ৪০ লাখ ৫৩ হাজার নয়শ বাহাত্তর টাকা খচর হয়েছে। যা গত ৬ মার্চ ২০২৫ ইং বাদী ও বিবাদীর অর্গানিক নিট ওয়্যার হিসাবের লিখিত পেইডে উভয়পক্ষের সন্তুষ্টিতে স্বাক্ষর করা হয়েছে।
তবে দূর্দান্ত চালাক বিবাদী একেএম ইব্রাহিম খন্দকার উক্ত ব্যবসা একা পরিচালনা করবে বলে তিন পার্টনার সহ বাদীকে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে চলে যেতে বলে। এতে বাদী সহ ব্যবসায়ের অন্য পার্টনাররা হতভম্ভ হয়ে পড়ে। এমতাবস্থায় বাদী সহ তিন পার্টনার বিষয়টি ৪ থেকে ৮ নং সাক্ষীকে জানায়। তারা ২০২৫ সালের ১২ এপ্রিল, ১৫ এপ্রিল ও ৫ মে তারিখে আপোষ নিস্পত্তির জন্য দুপক্ষের বক্তব্য শুনে। এ সময় বিবাদী ইব্রাহিম জানায়, বাদী সহ পার্টনারদের পাওনা ৪০ লাখ ৫৩ হাজার নয়শ বাহাত্তর টাকা হতে ৩৬ লাখ টাকা এক সপ্তাহের মধ্যে পরিশোধ করবেন বলে জানান।
তবে পরবর্তীতে টাকা ফেরত না দিয়ে টালবাহানা শুরু করে ইব্রাহিম। এক পর্যায়ে টাকা দিবেনা বলে উল্টো হুমকি দেয়। পরে এ ঘটনায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ ও বাংলাদেশ নীট অনার্স এসোসিয়েশন বরাবর আবেদন করেও কোন ফলাফল পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে স্থানীয় এক প্রভাবশালী ব্যক্তির সাথে ইব্রাহিমের সখ্যতা থাকার ফলে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় মামলা নিতেও রাজি হয়নি। এই অবস্থায় বিবাদী ইব্রাহিম প্রতিষ্ঠানের মেশিন অন্যত্র বিক্রি করার পাঁয়তারা করছে বলে জানতে পারে প্রতিষ্ঠানের অন্য পার্টনাররা। ফলে বাধ্য হয়ে গত ৯ ডিসেম্বর ২০২৫ ইং তারিখে নারায়ণগঞ্জে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্টেটের সিদ্ধিরগঞ্জ আমলী আদালতে মামলা দায়ের করেন প্রতিষ্ঠনটির পার্টনাররা।
এ ঘটনায় মামলার বাদী মানিক মিয়া বলেন, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতারণা করে আমাদের বের করে বিবাদী ইব্রাহিম প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তন করে ইব্রাহিম নিট ওয়্যার নামে প্রতিষ্ঠানটি চালাচ্ছে। এখন আমাদের বিনিয়োগের পাওনা টাকা চাইলে নানাভাবে টালবাহানা করছেন। এতে বাধ্য হয়ে আদালতে মামলা দায়ের করেছি।