1. voiceofnarayanagnj24@gmail.com : Salim Ahmed Dalim : Salim Ahmed Dalim
  2. info@ajkerdeshkantho.com : Rabbi630 :
নারায়ণগঞ্জে চাঁদাবাজ কারা? - Ajker Deshkantho
বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৪৮ অপরাহ্ন

নারায়ণগঞ্জে চাঁদাবাজ কারা?

স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ, ২০২৬

                   সারা দেশে চলছে চাঁদাবাজদের তালিকা 

নারায়ণগঞ্জ শহর ও শহরতলীর বিভিন্ন স্থানের ৫০ জন চাঁদাবাজের নাম তালিকা করেছে পুলিশ প্রশাসন। তবে সেই তালিকায় কার কার নাম উঠে এসেছে তা এখনো খোলাসা করেনি পুলিশ। এদিকে পরিবহন সেক্টর, ঝুট সেক্টর, ফুটপাতে হকার সহ বিভিন্ন সেক্টরে চাঁদাবাজি করে এমন চাঁদাবাজদের নাম উঠে এসেছে অনুসন্ধানে। তবে অনেক চাঁদাবাজদের শেল্টারদাতা বড় বড় রথি মহারথি হওয়ার ফলে অনেকে মুখ খুলতে শঙ্কা বোধ করছেন। ফলে এখনো নিরবে অনেক ব্যবসায়ী ও ভুক্তভোগী তাদের শিকার হচ্ছেন।

সারা দেশের ৬৪ জেলায় চাঁদাবাজ দমন ও তাদের আইনের আওতায় আনার জন্য পুলিশ প্রাথমিক তালিকা তৈরি করেছে। এই তালিকায় মোট ৩ হাজার ৮৪৯ জন চাঁদাবাজের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
পুলিশের তালিকাভুক্তদের মধ্যে হাতিরঝিলে ২০, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলে ৪৪, তেজগাঁওয়ে ১০৫, শেরে বাংলা নগরে ১৩, মোহাম্মদপুরে ২২, মিরপুরে ১৪৫, উত্তরা পূর্বে ১৪, উত্তরা পশ্চিমে ১৩, বনানীতে ১৫, ধানমন্ডিতে ১২, হাজারীবাগে ৫৪, মতিঝিলে ৩৪, শ্যামপুরে ৫৫ জন রয়েছে।

পুলিশের তথ্য অনুসারে দেশের অন্যান্য জেলার চাঁদাবাজের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য: গাজীপুর ৩৪, মানিকগঞ্জ ৩০, নারায়ণগঞ্জ ৫০, চট্টগ্রাম ৬৭, কক্সবাজার ৮৮, রাজশাহী ১৪, সিরাজগঞ্জ ১৮, সিলেট ৩৫, ভোলা ৭৩, পটুয়াখালী ৮৮। পার্বত্য তিন জেলায় ২৪৬ জন চাঁদাবাজ রয়েছে; রাঙামাটি ৯২, খাগড়াছড়ি ৮৮, বান্দরবন ৬৬।
এদিকে নারায়ণগঞ্জের সেই ৫০ জন চাঁদাবাজের নাম এখনো প্রকাশ করেনি পুলিশ। তবে শহরের বিভিন্ন সেক্টরে প্রকাশ্যে ও গোপনে চলছে চাঁদাবাজি। সেই তালিকা ও অনুসন্ধান অনুযায়ী, শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কে হকার বসিয়ে এক বিএনপি নেতার নাম

ভাঙিয়ে চাঁদাবাজি চলছে। পরিবহন সেক্টরগুলোতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বিএনপির কয়েকজন নেতার নির্দেশে চলছে চাঁদাবাজি। তবে এ নিয়ে মুখ খুলতে নারাজ পরিবহন সেক্টরের ভুক্তভোগিরা।
শিবু মার্কেট কায়েমপুর এলাকার এস কে শাহীন। তিনি স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা পরিচয় দিয়ে সড়ক ও জনপদের জায়গায় বসানো দোকান থেকে চাঁদাবাজি করে প্রত্যেক মাসে। ফতুল্লার শিবু মার্কেট থেকে সাইনবোর্ড পর্যন্ত লিংক রোডের দুই পাশের দোকান থেকে প্রত্যেক মাসে চাঁদা আদায় করে আসছে।

বিসিকের ঝুট সন্ত্রাসী স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা রাসেল। ঝুট সেক্টর থেকে চাঁদাবাজি করে আসছে। কুতুবপুর ৬ নং ওয়ার্ডের ডি এম আহসান হাবীব। তিনি লেগুনা থেকে চাঁদাবাজি করে আসছেন। জেলা ছাত্রদল নেতা ইয়াসিন আরাফাত ঝুট সন্ত্রাসীপনা করে আসছেন। স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা সাখাওয়াত হোসেন রানা বিভিন্ন সেক্টর থেকে চাঁদাবাজি করে আসছেন। তিনি ডেভিডের ভাগিনা পরিচয়ে এসব করে আসছেন। স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা নাজমুল বাবু। তিনি ভূইগড়, রূপায়ন ও শিবু মার্কেট থেকে চাঁদাবাজি করে আসছেন।

তাঁতীদলের উজ্জল সড়ক ও জনপদের বিভিন্ন স্থান থেকে চাঁদাবাজি করে আসছে। সেই চাঁদাবাজির টাকা দিয়ে ৪০ লাখ টাকায় নতুন গাড়ি কিনেছেন তিনি। এছাড়া রয়েছে পরিবহন চাঁদাবাজ সাঈদ।
বন্দর উপজেলায় খেয়া ঘাটের আশেপাশে সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে প্রতিনিয়ত চাঁদাবাজি করে আসছে যুবদল নেতা পরিচয়ে হুমায়ূন কবির। তিনি এক বিএনপি নেতার দাপটে কিছুদিন পূর্বে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় স্বতন্ত্র প্রার্থী মাকসুদ চেয়ারম্যানের নির্বাচনী প্রচারণায় প্রকাশ্যে হামলা চালিয়েছেন। এছাড়া বন্দরে বেশ কয়েকজন বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে। তারা বিভিন্ন লোকজন দিয়ে চাঁদাবাজি করিয়ে আসছেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চাঁদাবাজদের অধিকাংশ রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত। সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে তারা নিজেদের পরিচয় বদলে নতুন ক্ষমতাসীন দলের ছত্রছায়ায় সক্রিয় হয়ে চাঁদা আদায় শুরু করে। আদায়কৃত অর্থের একটি অংশ কিছু অসাধু রাজনৈতিক নেতা ও দুর্নীতিগ্রস্ত পুলিশ সদস্যের কাছেও পৌঁছায় বলে জানা গেছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন
© ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | দৈনিক আজকের দেশকন্ঠ
পোর্টাল বাস্তবায়নে : আজকের দেশকন্ঠ আইটি