নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় নতুন জজ কোর্ট সংলগ্ন পার্কিং এলাকা থেকে চুরি হওয়া একটি প্রাইভেটকার উদ্ধার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে আন্তঃজেলা গাড়ি চোরচক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযানে আরও একটি মাইক্রোবাস ও একটি প্রাইভেটকার উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে মোট পাচঁটি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এর মধ্যে চারটি গাড়ি চুরি ও একটি মাদক মামলা।
শনিবার (২৭ জুন) নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মিজানুর রহমান মুন্সি এক সংবাদ সম্মেলনে একথা জানান।
গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা হলেন— ফতুল্লা থানার মৃত শমসের মুন্সির ছেলে মুক্তার হোসেন (৪৮), কুমিল্লা জেলার লাঙ্গলকোট থানার মৃত আব্দুল মান্নানের ছেলে মো. মোমিনুর রহমান ওরফে লিটন (৪২) এবং একই এলাকার মৃত জুলফু মিয়ার ছেলে আলাউদ্দিন (৩৬)। তাদের মধ্যে মুক্তার হোসেনকে ফতুল্লার দেলপাড়া-চিতাশাল এলাকা থেকে এবং অপর দুইজনকে কুমিল্লার নাঙ্গলকোট এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, গত ২২ জুন চানমারি এলাকায় নতুন জজ কোর্টের সামনে পার্কিংয়ে নিজের ব্যবহৃত টয়োটা এক্স করোলা (মডেল-২০০৬) গাড়িটি রেখে নাস্তা করতে যান মালিক মোহাম্মদ আরিফ। কিছুক্ষণ পর ফিরে এসে তিনি গাড়িটি পার্কিংয়ে না পেয়ে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন। পরে কোনো সন্ধান না পেয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ফতুল্লা মডেল থানায় একটি চুরির মামলা দায়ের করেন।
মামলা রুজুর পর ফতুল্লা মডেল থানার একটি বিশেষ টিম তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করে ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করে। তদন্তে বেরিয়ে আসে, সংঘবদ্ধ একটি আন্তঃজেলা গাড়ি চোরচক্র পরিকল্পিতভাবে গাড়িটি চুরি করেছে।
গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ ও তথ্যের ভিত্তিতে চুরি হওয়া টয়োটা এক্স করোলা গাড়িটি উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে একটি পুরাতন নোয়া মাইক্রোবাস (ঢাকা মেট্রো গ-১৪-৯২৩০) এবং একটি প্রাইভেটকার (চট্টগ্রাম মেট্রো ঘ-১১-২৮৮০) উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃতরা একটি সক্রিয় আন্তঃজেলা গাড়ি চোরচক্রের সদস্য। তারা বিভিন্ন এলাকায় সুযোগ বুঝে পার্কিংয়ে রাখা গাড়ি চুরি করে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি বা পাচার করত। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। চক্রটির সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কিনা এবং উদ্ধার হওয়া অন্যান্য যানবাহনের প্রকৃত মালিকানা যাচাইয়ের কাজ চলছে।