1. voiceofnarayanagnj24@gmail.com : Salim Ahmed Dalim : Salim Ahmed Dalim
  2. info@ajkerdeshkantho.com : Rabbi630 :
যুবদল নেতার ধর্ষণের শিকার হয়েও বাড়ি ফিরতে নারীর ‘ভয়’ - Ajker Deshkantho
বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫৩ অপরাহ্ন

যুবদল নেতার ধর্ষণের শিকার হয়েও বাড়ি ফিরতে নারীর ‘ভয়’

সোনারগাঁ প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত : রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে এক গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে স্থানীয় এক যুবদল নেতাসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পলাতক রয়েছে অজ্ঞাত আরেকজন অভিযুক্ত।

এদিকে, আতঙ্কে বাড়ি ফিরতে পারছেন না ভুক্তভোগী নারী। স্বামী ও সন্তানের সঙ্গে অবস্থান করছেন নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালে।

তবে, পুলিশ বলছে, ভুক্তভোগী পরিবার তাদের বাড়িতে ফিরতে চাইলে তাদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।

সোনারগাঁ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন বলেন, গত শুক্রবার বিকেলে মামলার পর সন্ধ্যায় পুলিশ এজাহারনামীয় দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে। পলাতক অপর আসামিকেও গ্রেপ্তারে তৎপরতা চলছে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন: জামপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম শহীদ (৪০) ও তার সহযোগী একই এলাকার শাহিন মিয়া (৩৮)।

পুলিশ ও ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উপজেলার জামপুর ইউনিয়নের একটি গ্রামে টিনশেডের ভাড়াবাড়িতে দুই সন্তান নিয়ে বসবাস করেন ভুক্তভোগী দম্পতি। গত ১০ বুধবার বিকেলে ভাড়া বাড়ির রান্নাঘরে নিয়ে শহীদ ও তার দুই সহযোগী মিলে ওই নারীকে ধর্ষণ করেন।

ভুক্তভোগী নারী এ প্রতিবেদককে বলেন, তার রাজমিস্ত্রি স্বামী ওইদিন কাজের সুবাদে ঘরের বাইরে ছিলেন। এ সুযোগ তার বাড়িতে ঢুকে দুই শিশু সন্তানের সামনে মুখ চেপে ধরে রান্নাঘরে নিয়ে তাকে ধর্ষণ করে অভিযুক্ত তিনজন।

এ বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় প্রভাবশালী কয়েকজন ব্যক্তি সালিশের মিমাংসার চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগ ভুক্তভোগী পরিবারটির। পরে শুক্রবার বিকেলে থানায় গিয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে মামলাটি করেন ৩৩ বছর বয়সী ভুক্তভোগী নারী।

তিনদিন পর শনিবার বিকেলে তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয় নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে। কিন্তু এরপর আর তিনি বাড়িতে ফিরে যেতে ‘সাহস’ পাচ্ছেন না বলে জানান।

ওই নারীর স্বামী বলেন, “এলাকার লোকজন বিষয়টি মিমাংসার জন্য বলেছিল। এখন তো আমি মামলা করছি, তারা গ্রেপ্তারও হইছে। এখন এলাকায় গেলেই সমস্যায় পড়তে হবে। আবার পুলিশের যারা আমারে ডাক্তারের কাছে নিয়া আসছে তারাও এলাকায় ফিরতে না করছেন। কইছেন, বাপের বাড়ি বা শশুরবাড়ি গিয়ে থাকতে। তাদের তো কিছু জানাই নাই। এখন কই যামু বুঝতে না পাইরা হাসপাতালেই ভর্তি হইছি।”

ভুক্তভোগী নারীর শ্বশুরবাড়ি ঢাকার ডেমরা এলাকায়, অন্যদিকে বাবার বাড়ি চাঁদপুর জেলায়। কিন্তু দুই পরিবারের কেউই ঘটনা সম্পর্কে জানেন না। ফলে এ পরিস্থিতিতে সেখানেও যেতে পারছেন না বলে জানান তার রাজমিস্ত্রী স্বামী।

তবে, এ বিষয়ে পুলিশ পরিদর্শক জামাল উদ্দিন বলেন, “ভুক্তভোগীর অভিযোগের পরপরই আমার দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছি। তারা নির্ভয়ে ওই গ্রামে থাকতে পারবেন, তাদের নিরাপত্তা পুলিশ দেবে। এমনকি স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়িকেও এ বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া আছে। যদিও তারা আতঙ্কের বিষয়টি আমাদেরকে এখনো জানাননি।”

“আর পুলিশের কোনো সদস্য যদি ভয় দেখিয়ে থাকেন তাদের কথাবার্তার মাধ্যমে তাহলে সে বিষয়ে খোঁজখবর করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে,” যোগ করেন সোনারগাঁ থানা পুলিশের ওই কর্মকর্তা।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন
© ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | দৈনিক আজকের দেশকন্ঠ
পোর্টাল বাস্তবায়নে : আজকের দেশকন্ঠ আইটি