নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার কাশিপুর হাটখোলা এলাকায় এক তরুণীকে ধর্ষণের ঘটনায় সন্তান প্রসবের পরও অভিযুক্তরা গ্রেপ্তার না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার অভিযোগ করেছে, মামলা দায়ের করা হলেও দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও অভিযুক্তরা এখনও আইনের আওতার বাইরে রয়েছে।
ভুক্তভোগী সুইটি আক্তারের ভাষ্যমতে, স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ আলী (৪০), পিতা-কাছিম উদ্দিন, টেলিভিশন নষ্ট হয়েছে বলে তাকে নিজের বাসায় ডেকে নেয়। পরে একটি কক্ষে নিয়ে দরজা বন্ধ করে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এ ঘটনায় কাউকে কিছু জানালে তার ছোট ভাইকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সুইটি আক্তার আরও জানান, ঘটনার একপর্যায়ে বাবুল (৪০), পিতা-আলী হোসেন, তাকে জানায় যে সে ধর্ষণের ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছে এবং ভিডিও ধারণ করেছে। পরে ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তাকেও জোরপূর্বক অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী।
ভুক্তভোগীর মা শাহিদা আক্তার জানান, ঘটনার প্রায় ছয় মাস পর মেয়ের শারীরিক পরিবর্তন লক্ষ্য করে বিষয়টি জানতে চাইলে সুইটি পুরো ঘটনা খুলে বলে। পরে হাসপাতালে নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানো হলে রিপোর্টে তার গর্ভবতী হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়।
পরবর্তীতে বিষয়টি এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অবগত করা হলে স্থানীয়ভাবে সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয়। তবে সালিশের পরদিন সমাধানের আশ্বাস দিয়ে প্রধান অভিযুক্ত মোহাম্মদ আলী এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ ওঠে। অন্যদিকে অভিযুক্ত বাবুল এখনও এলাকায় প্রকাশ্যে চলাফেরা করছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, আর্থিক সংকটের কারণে সুইটি আক্তারের সন্তান প্রসবের চিকিৎসা ব্যয় বহন করা সম্ভব হয়নি। পরে এক ব্যক্তি মানবিক কারণে চিকিৎসার খরচ বহন করেন এবং নবজাতকের লালন-পালনের দায়িত্ব নেন। পরবর্তীতে তিনি আইনগত প্রক্রিয়ায় শিশুটিকে দত্তক গ্রহণ করেন বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়দের অভিযোগ, ঘটনায় মামলা দায়ের হলেও এখনও পর্যন্ত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়নি। তারা দ্রুত অভিযুক্তদের আইনের আওতায় এনে সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে স্থানীয়রা সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।