আসন্ন পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন এলাকায় কোরবানির পশুর দুটি হাটে ইজারা ছাড়া গরু তুলেছে বিএনপি নেতারা। এছাড়া ইজারা ছাড়া অবৈধভাবে হাট বসিয়েছে আরেক বিএনপি নেতা। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ওই এলাকার ইজারাদাররা।
এর মধ্যে সব থেকে বেশি আলোচনা সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে ১৮নং ওয়ার্ডের কয়লাঘাট পশুর হাটটি নিয়ে। সেখানে গোগনগর বিএনপির সভাপতি আক্তার হোসেন ও যুবদল নেতা মন্তু অবৈধভাবে একটি হাটে কোরবানীর পশু তুলে হাট শুরু করেছেন।
অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ৩ ও ৪নং ওয়ার্ডে তিন হাট সিটি কর্পোরেশন থেকে দরপত্র আহ্বান করা হলেও পরবর্তীতে সেগুলো স্থগিত করে সিটি কর্পোরেশন। এখনো সেই হাটগুলো স্থগিত অবস্থায় থাকলেও ওই সকল হাটগুলোতে ইতোমধ্যে গরু তুলে ফেলা হয়েছে।
১৮নং ওয়ার্ডের কড়ইতলা হাটের ইজারাদার রাফি উদ্দিন রিয়াদ জানান, বিআইডব্লিউটিসি, ও বিআইডব্লিউটিএ এর কিছু জায়গায় ভুয়া এনওসি দেখিয়ে হাটের জন্য আবেদন করেছিলেন গোগনগর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আক্তার হোসেন। কিন্তু সিটি কর্পোরেশন থেকে সেই হাটের কোন অনুমোদন দেননি। কোনো টেন্ডার প্রক্রিয়াও সম্পন্ন হয়নি। কিন্তু তারা অবৈধ ভাবে এই হাটটি বসিয়ে এদিকে যেমন সরকারী রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছে, অন্য দিকে আমরা এই ওয়ার্ডে দুটি হাটে যারা ইজারা নিয়েছি তাদেরকেও ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এছাড়াও তারা কড়ইতলা হাটের কথা বলে ট্রলার থেকে গরু নামিয়ে কয়লাঘাটের ব্রিজের নিচে অবৈধ হাটে নিয়ে যাচ্ছে। এসব বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। নয়তো যে কোনো সময় একটি বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে একটি সংঘর্ষ সৃষ্টি হবে। তখন এসব কিছুর দায় সিটি কর্পোরেশন এবং নারায়ণগঞ্জ প্রশাসনকে নিতে হবে।
তবে কয়লাঘাট এলাকায় অবৈধ হাটটি পরিচালনা করা গোগনগর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আক্তার হোসেন জানান, সাখাওয়াত ভাই এসে আমাদের হাটের ঘোষণা দিবেন।
কয়লাঘাট এলাকায় বিআইডব্লিউটিএ তাদের জায়গার উপর হাট করতে কোনো অনাপত্তি দিয়েছেন কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে বিআইডব্লিউটিএ এর নারায়ণগঞ্জের যুগ্ম পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমরা কাউকে এমন কোনো এনওসি দেইনি। আমরা বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখবো সত্যতা পেলে উচ্ছেদ করে দিবো।
নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা নূর কুতুব এ আলম জানান, এখন পর্যন্ত ৩ ও ৪ নং ওয়ার্ডের স্থগিত করা হাটের টেন্ডার হয়নি, সেই সাথে ১৮নং ওয়ার্ডে নতুন কোনো হাটের অনুমোদন সিটি কর্পোরেশন থেকে দেওয়া হয়নি। এ ব্যাপারে আমাদের প্রশাসক চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দিবেন।
নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান জানান, আমি বুধবার সিটি কর্পোরেশনে আসবো। অফিসে এসে আমি এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিবো এবং সব কিছুর সমাধান করবো।