নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের (বন্দর থানার) ফুলহরে ইসলামিয়া সুপার মার্কেটের ঠিক মাঝখানে বৈদ্যুতিক ৩টি ট্রান্সফরমা ব্যাপকভাবে ভাবিয়ে তুলেছে অত্র মার্কেটের ব্যবসায়ী ও ক্রেতাসাধারণকে।
নিরুপায় হয়ে মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে নিত্যদিন এখানে ব্যবসা পরিচালনা করছেন রেস্টুরেন্ট, প্রিন্টিং প্রেস, জুয়েলারি, টেইলার্স, লাইব্রেরি, থান কাপড়, জুতা, মোবাইল ফোন, কসমেটিক্স, হার্ডওয়্যার, মিষ্টি ও মুদি মালের ব্যবসায়ীরা। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মার্কেটটির পাকা ভবনের পূর্ব দিকে একেবারেই খুব সামান্য দূরত্বে একটি খুঁটিতে অনেক পুরাতন ৩টি ট্রান্সফরমা রয়েছে। তাছাড়া খুঁটির নীচেও রয়েছে মাছ, মাংস ও সবজির দোকানপাট।
দোকানদার শাহাদুল্লাহ জানান, ‘খুঁটি ও ট্রান্সফরমা অনেক পুরাতন। অনেক ঝুঁকি নিয়ে আমরা দোকান চালাচ্ছি। যে কোন সময় বজ্রপাতে ট্রান্সফরমা বিস্ফোরণ হয়ে পুরো মার্কেটে আগুন লেগে যেতে পারে। আনিস নামে একজন ক্রেতা জানান, মাথার উপর এলোমেলো অসংখ্য তার ও পুরাতন ট্রান্সফরমা। আসলেই ভয়াবহ পরিস্থিতি। বজ্রপাতে আগুন লেগে বড় ধরণের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে, তাই দ্রুত ট্রান্সফরমা অন্যত্র সরিয়ে নেয়া দরকার। মার্কেট পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক রাসেল প্রধান বলেন, গত জানুয়ারি মাসে এ মার্কেটের ১টি ট্রান্সফরমায় আগুন ধরে যায়, পরে নিজেদের চেষ্টায় আমরা দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হই।
এ ঘটনায় বড় ধরণের দুর্ঘটনার আশংকা তৈরি হয়েছিলো। খুঁটি ও ট্রান্সফরমাগুলো সরিয়ে নিরাপদ দূরত্বে স্থাপনের জন্য আমরা পল্লী বিদ্যুতের মদনপুর জোনাল অফিসে যোগাযোগ করলেও তার কোন প্রতিকার পাইনি। তারা এ বিষয়ে কোন কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর আওতাধীন মদনপুর জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী মো. আবদুল্লাহ আল মামুনের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান ‘এ মার্কেটে একটি বৈদ্যুতিক সাব স্টেশন নির্মাণের জন্য তাদেরকে বলা হয়েছে। অতঃপর আমরা খুঁটি ও ট্রান্সফরমা সরিয়ে মাটির নীচ দিয়ে তারের মাধ্যমে তাদেরকে বিদ্যুৎ সংযোগ দিবো। এতে করে মার্কেটের ও ক্রেতাসাধারণের ঝুঁকি হ্রাস পাবে ও নিরাপত্তা জোরদার হবে’।