1. voiceofnarayanagnj24@gmail.com : Salim Ahmed Dalim : Salim Ahmed Dalim
  2. info@ajkerdeshkantho.com : Rabbi630 :
শিঘ্রই মুক্তি পাচ্ছেন আইভী - Ajker Deshkantho
রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ০১:০৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
সোনারগাঁয়ে মোটরসাইকেলের এয়ার ফিল্টারে ২ হাজার ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ২ প্রেম থেকে অনশনের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে তরুণী পূর্বাচলে মাদকের বিরুদ্ধে গ্রামবাসীর বিক্ষোভ মাসদাইরে শেরে বাংলা সমাজকল্যাণ সংস্থার বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা হত্যা মামলার আসামি ও দোসর আবু সুফিয়ানের দুঃসাহস সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ‘হোটেল বাপ্পি’ গ্রেফতার আর্জেন্টিনা যেভাবে খেলে, ওটাকে তো ফুটবলই বলা যায় না ভূমি অফিসে সাইবার নিরাপত্তা জোরদারে ১০ নির্দেশনা সিদ্ধিরগঞ্জে হাবিবুল্লাহ মডেল হাইস্কুলের বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা সোনারগাঁয়ে পানিয়ে মিশিয়ে মাংস বিক্রির অপরাধে ব্যবসায়ীর জরিমানা

শিঘ্রই মুক্তি পাচ্ছেন আইভী

শিঘ্রই মুক্তি পাচ্ছেন আইভী
  • প্রকাশিত : সোমবার, ১৮ মে, ২০২৬

প্রায় এক বছর আগে গ্রেফতার হওয়া নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী কারাগারে রয়েছেন। একের পর এক বৈষম্যবিরোধী মামলায় তাকে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়েছে। তবে এবার সবশেষ তার বিরুদ্ধে করা দু’টি হত্যা মামলায় হাইকোর্টের জামিন আদেশ বহাল রেখেছে চেম্বার আদালত। এর ফলে তার কারামুক্তিতে আর কোন বাধা থাকছেনা বলে আইনজীবীরা জানিয়েছেন।
রোববার (১৭ মে) দুপুরে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক এ আদেশ দেন।
এর আগে আরও দশটি মামলায় হাইকোর্ট থেকে অন্তর্র্বতীকালীন জামিন পান সাবেক এ সিটি মেয়র। তার আইনজীবীরা বলছেন, সর্বশেষ দুই মামলায় চেম্বার আদালতের জামিন বহাল রাখার আদেশের পর এখন আর তার কারামুক্তিতে আইনি কোনো বাধা নেই।
রোববার আইভীর পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোতাহার হোসেন সাজু ও আইনজীবী এস এম সিদ্দিকুর রহমান। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী এস এম হৃদয় রহমান।
রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দা সাজিয়া শারমিন।
মোতাহের হোসেন সাজু বলেন, দশটি মামলায় হাইকোর্টের জামিন পাওয়ার পর সিদ্ধিরগঞ্জ থানার আরও দু’টি মামলায় আইভীকে গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ। এ দুই মামলাতেও অন্তর্র্বতীকালীন জামিন পাওয়ার পর রাষ্ট্রপক্ষ তা স্থগিতের জন্য আবেদন করে।
“এই আবেদনের শুনানি হয় রোববার চেম্বার আদালতে। শুনানি শেষে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে ‘নো অর্ডার’ দিয়েছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত,” যোগ করেন ওই আইনজীবী।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে ওই বছরের ১৮ আগস্ট সারাদেশের সিটি কর্পোরেশনের মেয়রদের অপসারণ করা হলে দায়িত্ব হারান নারায়ণগঞ্জ সিটির তিনবারের নির্বাচিত মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী।
ওই বছরের সেপ্টেম্বরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত পোশাক শ্রমিক মিনারুল ইসলাম হত্যা মামলায় প্রথম আইভীকে আসামি করা হয়। পরে আরও চারটি মামলায় তাকে আসামি করা হয়।
গত বছরের ৯ মে ভোরে শহরের দেওভোগের বাসা থেকে গ্রেপ্তার হন সাবেক এ সিটি মেয়র। নিম্ন আদালতে জামিন না পেয়ে উচ্চ আদালতে গেলে হাইকোর্ট তাকে পাঁচটি মামলায় অন্তর্র্বতীকালীন জামিন দেয়। কিন্তু জামিন পাওয়ার দিনই আরও পাঁচটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখাতে আদালতে আবেদন করে পুলিশ। আদালতও পরে তা মঞ্জুর করেন।
এরপর ওই পাঁচ মামলাতেও হাইকোর্ট আইভীকে জামিন দিলে আরও দু’টি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ এবং একইসঙ্গে পুরোনো মামলাগুলোর জামিন আদেশ স্থগিত করতে চেম্বার জজ আদালতে আবেদন জানায় রাষ্ট্রপক্ষ।
এরপর, একের পর এক মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর এই প্রক্রিয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে সম্প্রতি হাই কোর্টে রিট আবেদন করেন আইভীর আইনজীবীরা। সেই রিটের শুনানি শেষে গত ২৬ এপ্রিল হাই কোর্ট আইভীকে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া নতুন কোনো মামলায় হয়রানি বা গ্রেপ্তার না করার নির্দেশ দেয়।
একইসঙ্গে একের পর এক মামলায় আইভীকে গ্রেপ্তার দেখানো কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করে আদালত।
আইভীর আইনজীবী এস এম হৃদয় রহমান বলেন, “১২ মামলায় আইভীকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিনাদেশ ও জামিন বহাল রেখে আপিল বিভাগের দেওয়া আদেশে কারা কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে পৌঁছানোর বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। এই প্রক্রিয়া শেষে চলতি সপ্তাহে তিনি মুক্তি পেতে পারেন বলে আশা করছি।”
এর আগে দুটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর প্রক্রিয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন আইভী। রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত ২৬ এপ্রিল হাইকোর্ট রুলসহ আদেশ দেন। রুলে শুধু হয়রানি ও অপদস্থ করার উদ্দেশ্যে বারবার এবং মিথ্যা প্রকৃতির মামলায় আবেদনকারীকে জড়ানোর কার্যক্রম কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া তাঁকে গ্রেপ্তার না দেখাতে, গ্রেপ্তার ও হয়রানি না করতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, রুলে সেটিও জানতে চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া আইভীকে গ্রেপ্তার না দেখাতে ও হয়রানি না করতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
আইনসচিব, নারায়ণগঞ্জের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশের মহাপরিদর্শক, নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার এবং নারায়ণগঞ্জ সদর, সিদ্ধিরগঞ্জ ও ফতুল্লা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের (ওসি) রিটে বিবাদী করা হয়েছে। তাঁদের চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী দীর্ঘ ২১ বছর পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনের চেয়ারম্যান ও মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
জানা গেছে, ২০০৩ সালে অনুষ্ঠিত পৌর চেয়ারম্যান নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে জয়লাভ করে নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার প্রথম নারী চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন আইভী। পরে ২০১১ সালে নারয়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনে নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তিনি মেয়র হিসেবে জয়লাভ করেন। ওই নির্বাচনে প্রভাবশালী শামীম ওসমানকে বিপুল ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে তিনি দুর্দান্ত দাপটে ছিলেন।
পরে ২০১৬ সালে দ্বিতীয় ও ২০২২ সালে তৃতীয় দফায় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দলীয় নৌকা প্রতিক নিয়ে লড়াই করে জয়লাভ করেন ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। এছাড়া তিনি প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদাও পেয়েছিলেন। ফলে টানা তিন মেয়াদে সিটি করপোরেশনের মেয়র ও এক মেয়াদে পৌরসভার চেয়ারম্যান পদে আসিন থেকে দুর্দান্ত ক্ষমতাবান হয়ে উঠেন তিনি। তার এক কথায় সিটি করপেরেশনের বড় বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হতো। এমনকি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গুডবুকে থাকার ফলে দুর্দান্ত দাপটের সাথে ক্ষমতার সংমিশ্রণে এক অপরাজেয় শক্তিতে পরিণত হন আইভী।
তবে ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে ওই বছরের ১৯ আগস্ট নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন সহ দেশের ১২টি সিটি করপোরেশনের মেয়রকে অপসারণ করে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়। এতে ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে মেয়র পদ থেকে অপসারণ করা হয়।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন
© ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | দৈনিক আজকের দেশকন্ঠ
পোর্টাল বাস্তবায়নে : আজকের দেশকন্ঠ আইটি