আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীপথে বাড়তে শুরু করেছে গরুবাহী ট্রলারের আনাগোনা। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ট্রলারযোগে শত শত গরু নিয়ে আসছেন খামারি ও ব্যাপারীরা। ইতোমধ্যে জেলার বিভিন্ন পশুর হাটে গরু উঠতে শুরু করায় জমে উঠেছে হাটের পরিবেশ।
শুক্রবার (১৫ মে) সকাল থেকে শীতলক্ষ্যা নদীর বিভিন্ন ঘাট এলাকায় দেখা যায়, বড় বড় ট্রলারে করে গরু নিয়ে আসছেন ব্যাপারীরা। নদীপথে ভেসে আসা এসব ট্রলার ঘাটে ভিড়ানোর পর শ্রমিকরা গরু নামিয়ে হাটে নিয়ে যাচ্ছেন। এসময় হাট এলাকায় ক্রেতা, বিক্রেতা ও শ্রমিকদের ব্যস্ততা চোখে পড়ে।
ব্যাপারীরা জানান, উত্তরাঞ্চলের সিরাজগঞ্জ, পাবনা, কুষ্টিয়া, নাটোরসহ বিভিন্ন জেলা থেকে গরু নিয়ে এসেছেন তারা। সড়কপথের তুলনায় নদীপথে একসঙ্গে বেশি গরু পরিবহন করা যায় এবং খরচও তুলনামূলক কম হওয়ায় তারা ট্রলার ব্যবহার করছেন।
এক গরু ব্যবসায়ী জানান, “নদীপথে গরু আনতে ঝামেলা কম হয়। এক ট্রলারে অনেক গরু আনা যায়। তাই আমরা প্রতিবছরই শীতলক্ষ্যা নদীপথ ব্যবহার করি।”
হাট সংশ্লিষ্টরা জানান, ঈদ যত ঘনিয়ে আসবে, ততই গরুর সংখ্যা বাড়বে। ইতোমধ্যে হাটে প্যান্ডেল তৈরি, বাঁশ বাঁধা এবং অস্থায়ী শেড নির্মাণের কাজ চলছে। পাশাপাশি হাটে বিদ্যুৎ, পানি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হচ্ছে।
এদিকে গরুবাহী ট্রলারের নিরাপত্তায় নদীপথে টহল বাড়িয়েছে নৌপুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। যাতে কোনো ধরনের চাঁদাবাজি, ছিনতাই বা অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সেজন্য নজরদারি অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
স্থানীয়দের ধারণা, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই নারায়ণগঞ্জের পশুর হাটগুলো পুরোপুরি জমে উঠবে এবং শীতলক্ষ্যা নদীজুড়ে বাড়বে গরুবাহী ট্রলারের সংখ্যা।