নারায়ণগঞ্জের নবীগঞ্জ খেয়াঘাট এলাকায় টোল আদায়কারীদের বিরুদ্ধে কলেজছাত্রীদের সঙ্গে অশোভন আচরণ ও গালিগালাজের অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (১৩ মে) বিকেলে শীতলক্ষ্যা নদীর পশ্চিম পাড়ে নবীগঞ্জ খেয়াঘাটের টোল আদায় কক্ষে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী ছাত্রীরা জানান, তারা নারায়ণগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজ-এর শিক্ষার্থী। প্রতিদিন পড়াশোনার জন্য তাদের বন্দরের নবীগঞ্জ খেয়াঘাট দিয়ে শীতলক্ষ্যা নদী পারাপার হতে হয়। ঘাটের নিয়ম অনুযায়ী, ইজারাদারের ট্রলারে পার হলে নির্ধারিত ২ টাকা টোল দিতে হয়। তবে সাধারণ নৌকায় পারাপারের ক্ষেত্রে কোনো টোল দেওয়ার নিয়ম নেই বলেও দাবি করেন তারা।
অভিযোগে জানা যায়, বুধবার বিকেলে ওই ছাত্রীরা নৌকায় করে পার হওয়ার জন্য ঘাটে পৌঁছালে টোল আদায়কারী জুম্মন তাদের কাছে টোল দাবি করেন। ছাত্রীরা নৌকায় পারাপারের বিষয়টি উল্লেখ করে টোল দিতে অস্বীকৃতি জানালে টোল আদায়কারীরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে তারা ছাত্রীদের ঘিরে ধরে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ এবং অশোভন আচরণ শুরু করেন বলে অভিযোগ উঠে।
লাঞ্ছনার শিকার এক ছাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা প্রতিদিন এই পথ দিয়েই কলেজে যাই। নৌকায় পার হলে টোল দেওয়ার নিয়ম না থাকলেও জুম্মন ও তার সহযোগীরা আমাদের আটকে রেখে অপমান করেছে। তাদের ব্যবহারের ভাষা এতোটাই কুরুচিপূর্ণ ছিল যে আমরা হতভম্ব হয়ে গিয়েছি। জনসম্মুখে তারা আমাদের সঙ্গে এমন আচরণ করার সাহস পেয়েছে।”
স্থানীয়রা জানান, নবীগঞ্জ খেয়াঘাটের ইজারাদারের লোকজনের বিরুদ্ধে প্রায়ই সাধারণ যাত্রীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। বিশেষ করে নারী ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে টোল আদায়কে কেন্দ্র করে প্রায়শই তর্ক-বিতর্কের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ রয়েছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে টোল আদায়কারী জুম্মন বলেন, “আমি তাদের কাছে টোলের টাকা চেয়েছি। তারা কলেজ আইডি কার্ড প্রদর্শন করলে ভাড়া নিতাম না।”