1. voiceofnarayanagnj24@gmail.com : Salim Ahmed Dalim : Salim Ahmed Dalim
  2. info@ajkerdeshkantho.com : Rabbi630 :
নিরাপদে ব্লাক জনির মাদক সাম্রাজ্য! - Ajker Deshkantho
শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:২৬ পূর্বাহ্ন

নিরাপদে ব্লাক জনির মাদক সাম্রাজ্য!

অনলাইন ডেস্ক
  • প্রকাশিত : বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬

‎বন্দর প্রতিনিধি: নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখন এক কুখ্যাত অপরাধীর পকেটে। ছিনতাই, ডাকাতি, অস্ত্র ও মাদকসহ অন্তত ২০টি মামলার দুর্র্ধষ আসামি ‘ব্লাক জনি’র একক নিয়ন্ত্রণে চলছে বন্দরের বিশাল মাদক সাম্রাজ্য।
‎অভিযোগ উঠেছে, জনিকে গ্রেফতার না করে বরং তার কাছ থেকে নিয়মিত ‘মাসোহারা’ গ্রহণের মাধ্যমে তাকে এক প্রকার নিরাপত্তা দিচ্ছে স্থানীয় পুলিশের একটি অসাধু চক্র। ফলে পুলিশের নাকের ডগায় বসে জনি ও তার গ্যাং বন্দরের তরুণ প্রজন্মকে ধ্বংসের নেশায় মত্ত থাকলেও প্রশাসন রহস্যজনকভাবে নির্বিকার।
‎কে এই ব্লাক জনি?
‎অনুসন্ধানে জানা গেছে, বন্দর উপজেলার সুচিয়ারবন্দ এলাকার আমান উল্লাহ ছেলে ত্রাস হিসেবে পরিচিত ব্লাক জনির বিরুদ্ধে থানায় হত্যাচেষ্টা, ডাকাতি ও মাদকের একাধিক মামলা রয়েছে। প্রায় ২০টি মামলার এই ফেরারি আসামি হওয়ার পরও সে বুক ফুলিয়ে এলাকায় ঘুরে বেড়ায়। বন্দরের বিভিন্ন মাদক স্পট যেমন কলাগাছিয়া, বন্দর, একরামপুর, সোনাকান্দা, ইস্পাহানী এবং মুছাপুরের চোরা গলিগুলোতে তার সিন্ডিকেট দিন-রাত মাদক সরবরাহ করছে। জনির ইশারায় এলাকায় সক্রিয় রয়েছে বেশ কয়েকটি ‘কিশোর গ্যাং’ গ্রুপ, যারা মাদকের বাহক হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকান্ড লিপ্ত থাকে।
‎পুলিশের ‘মাসোহারা’ ও ‘সোর্স’ বাণিজ্য
‎সবচেয়ে ভয়াবহ অভিযোগ উঠেছে বন্দর থানা পুলিশের একাংশের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি, ব্লাক জনির প্রতিটি মাদক আস্তানা পুলিশের কাছে সুপরিচিত। কিন্তু প্রতি মাসের একটি নির্দিষ্ট সময়ে জনির পক্ষ থেকে বিপুল অংকের ‘মাসোহারা’ বা মাসোহারা পৌঁছে যায় নির্দিষ্ট কিছু অসাধু পুলিশ সদস্য ও তাদের ‘সোর্স’দের হাতে। এই অনৈতিক আর্থিক লেনদেনের কারণে ২০টি মামলার আসামি হওয়ার পরও পুলিশ তাকে খুঁজে পায় না। এমনকি কোনো বড় অভিযানের খবর আগেভাগে জনির কাছে পৌঁছে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে, যাতে সে গা ঢাকা দিতে পারে।
‎মাদকের এই ভয়াল বিস্তারে বন্দরের হাজারো অভিভাবক তাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কিত। স্থানীয় এক প্রবীণ বাসিন্দা আক্ষেপ করে বলেন, “আমরা জানি জনি কোথায় থাকে, পুলিশও জানে। কিন্তু পুলিশের পকেট যখন জনির টাকায় ভারী হয়, তখন তারা আমাদের সাধারণ মানুষের কান্না দেখে না। ব্লাক জনি এখন বন্দরের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে।”
‎এলাকাবাসীর একটাই প্রশ্ন ২০টি মামলার আসামি প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালে আইনের শাসন থাকে কোথায়? বন্দরকে মাদকমুক্ত করতে হলে কেবল খুচরা বিক্রেতা নয়, বরং ব্লাক জনির মতো ‘রাঘববোয়াল’ ও তাকে প্রশ্রয়দাতা পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে হবে। নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার এবং জেলা প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপের মাধ্যমে ব্লাক জনির এই মাদক সাম্রাজ্য গুঁড়িয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে ভুক্তভোগী বন্দরবাসী।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন
© ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | দৈনিক আজকের দেশকন্ঠ
পোর্টাল বাস্তবায়নে : আজকের দেশকন্ঠ আইটি