ফতুল্লা প্রতিনিধি: নারায়ণগঞ্জের কাশিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আরিফ মন্ডল ওরফে ‘ফেন্সি আরিফ’ ও তার বাহিনী ক্রমশ বেপরোয়া হয়ে উঠছেন। প্রশাসনের অসাধু কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই ভূগর্ভস্থ ডিপিডিসির কোটি টাকা মূল্যের ‘ডেড ক্যাবল’ (পরিত্যক্ত তার) উত্তোলন করে চলেছেন তিনি। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে মন্ডলবাড়ী এলাকায় তার উত্তোলনের সময় তিতাস গ্যাসের পাইপ বিস্ফোরণে এক ব্যক্তি গুরুতর দগ্ধ হয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতে আরিফ মন্ডলের নেতৃত্বে আনুমানিক ১৫ লক্ষ টাকা মূল্যের সরকারি তার উত্তোলন করা হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে তথাকথিত ‘সমঝোতার’ মাধ্যমে তারগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়।
তবে তার উত্তোলনের জন্য মাটি খোঁড়াখুঁড়ির এক পর্যায়ে তিতাস গ্যাসের ভূগর্ভস্থ পাইপলাইনে আঘাত লাগলে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। এতে একজন ব্যক্তি দগ্ধ হন। পরে তাকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, মানুষের জীবনের চেয়ে আরিফ বাহিনীর কাছে টাকার গুরুত্বই বেশি।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, টাকার নেশায় এই নেতা মাটির নিচে থাকা সরকারি তার তুলে নিচ্ছে। কিন্তু এসব তার উত্তোলন করতে গিয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। সেই আশঙ্কা করতে না করতে সম্প্রতি তার উত্তোলন করতে গিয়ে গ্যাসের পাইপে আঘাত লেগে বিষ্ফোরণ ঘটেছে। এখনি তার চুরি বন্ধ করতে না পারলে আরও বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
আরিফ মন্ডলের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা (ফেনসিডিল), ভূমিদস্যুতা ও ফিটিংবাজিসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এমনকি তিনি এর আগে বিপুল পরিমাণ ফেনসিডিলসহ পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। সম্প্রতি তিনি আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা বিদ্রুপ করে বলছেন, “সময় এখন বর্ষাকাল, ছাগলে চাটে বাঘের গাল—বাটপাররা এখন চেয়ারম্যান হতে চায়।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বিএনপি নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,”দীর্ঘ সংগ্রাম ও ত্যাগের পর বিএনপি আজ এই অবস্থানে। কোনো চোর, বাটপার বা মাদক ব্যবসায়ী দলের নেতৃত্ব দেবে-এটি মেনে নেওয়া যায় না। ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলাম টিটু কোন অদৃশ্য শক্তির প্রভাবে বিতর্কিত আরিফের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছেন না, তা আমাদের বোধগম্য নয়।”
কাশিপুরের রাজনীতিতে স্বচ্ছ ইমেজ ফিরিয়ে আনতে এবং দলের প্রতি জনমানুষের আস্থা ধরে রাখতে অনতিবিলম্বে এসব বিতর্কিত নেতার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।