একের পর এক নানা কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনির ললাটে বিতর্কের তীলক এটে দেওয়া হচ্ছে। গুলি করে হত্যা চেষ্টার ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতে এবার এক যুবককে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে করে ফের তাকে নিয়ে আলোচনা সমালোচনা শুরু হয়েছে।
জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় গার্মেন্টস ওয়েস্টিজ (ঝুট) ব্যবসাকে কেন্দ্র করে হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে গত ২৫ এপ্রিল জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনির বিরুদ্ধে ফতুল্লা মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুব অধিকার পরিষদের সভাপতি সাব্বির হোসেন রাজা এ ডায়েরি করেন।
সাধারণ ডায়েরিতে তিনি উল্লেখ করেন, আমি ও ৮ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের তুহিন দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠানের অনুমতি নিয়ে ওয়েস্টিজ মালামাল ক্রয়-বিক্রয়ের ব্যবসা করে আসছি। ২৫ এপ্রিল দুপুর আনুমানিক একটার দিকে ফতুল্লা থানাধীন বিসিক এলাকার মহোসিনের গলি এলাকায় একটি গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠান (সুমন নিটিং) থেকে ওয়েস্টিজ ক্রয়ের সময় কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তি বাধা দেন। এসময় তারা ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রাণনাশের হুমকি দেন।
জিডিতে আরও উল্লেখ করা হয়, একই দিন দুপুর ২টা ১৭ মিনিটের দিকে অভিযুক্ত জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনি (৩৭) তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর থেকে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে কল করে অভিযোগকারীকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং ওই এলাকা থেকে ব্যবসা না করতে হুমকি দেন। অন্যথায় গুরুতর ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে অভিযোগকারী সাব্বির বলেন, যেকোনো সময় তার ওপর হামলা বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। তাই ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার স্বার্থে বিষয়টি সাধারণ ডায়েরিভুক্ত করার আবেদন করা হয়েছে।
জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী জানান, জিডির বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি।
এদিকে গত ৯ এপ্রিল ফতুল্লায় একটি পোশাক কারখানার ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুইপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় দুজন গুলিবিদ্ধ হয়েছে। এ ঘটনায় গত শনিবার বিকেলে ফতুল্লা মডেল থানায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগে একটি মামলা করেন স্থানীয় বিএনপি নেতা মো. হোসেন খোকা। ওই মামলায় মশিউর রহমান রনিসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত ২০ থেকে ২৫ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করা হলেও জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনি এখনো অধারা রয়েছে।
এ ঘটনায় আহত রাকিবুল হাসান রাকিবের বাবা ও এনায়েতনগর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হোসেন খোকা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।
মামলায় বাদী মো. হোসেন খোকা অভিযোগ করেন, গত ৯ এপ্রিল সকালে এনায়েতনগর ইউনিয়নের হরিহরপাড়ার চাঁদনী হাউজিং এলাকায় ‘বেস্ট স্টাইল লিমিটেড’ নামে কারখানার ঝুট ক্রয়-বিক্রয় নিয়ে বিরোধে কারখানার সামনে লোকজন জড়ো হয়েছিল। স্থানীয় বাসিন্দা হওয়ায় খবর পেয়ে কয়েকজনকে নিয়ে কারখানার ভেতর ঢুকতে গেলে অভিযুক্তরা তাকে মারধর করেন। তার ছেলে রাকিবুল হাসান রাকিব বাবাকে রক্ষা করতে গেলে তাকে গুলি করা হয়। গুলিটি রাকিবের বুকের ডানপাশে লাগে এবং সে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বলেও জানান খোকা। এ মামলার ৮ নম্বর আসামি মশিউর রহমান রনিকে হামলার নির্দেশদাতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে, ঘটনার দিন পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন জানিয়েছিল, আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর এনায়েতনগর ইউনিয়নের হরিহর পাড়ার চাঁদনী হাউজিং এলাকার ‘বেস্ট স্টাইল কম্পোজিট লিমিটেডের’ ঝুট নামাতেন জেলা যুবদলের সদস্যসচিব মশিউর রহমান রনির অনুসারীরা।
এ নিয়ে ফতুল্লা থানা যুবদলের আহ্বায়ক মাসুদুর রহমান ও তার অনুসারীদের সঙ্গে বিরোধ চলছিল। ওই বিরোধের জেরে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। গুলিতে আহত হন এক শিশুসহ তিনজন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, সংঘর্ষের সময় উভয় পক্ষ গুলি ছোড়ে, হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে স্থানীয় লোকজন আতঙ্কিত হয়ে পড়ে এবং দোকানপাট বন্ধ করে দেন ব্যবসায়ীরা।
এই ঘটনায় মামলার বাদী মো. হোসেন খোকা, তার ছেলে রাকিবুল হাসান রাকিব ও ফতুল্লা থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব রাসেল মাহমুদও যুবদল নেতা মাসুদুর রহমানের পক্ষ নিয়ে সংঘর্ষে জড়ান বলেও জানিয়েছিলেন স্থানীয়রা। তবে সংঘর্ষের ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন যুবদল নেতা মশিউর রহমান রনি।