1. voiceofnarayanagnj24@gmail.com : Salim Ahmed Dalim : Salim Ahmed Dalim
  2. info@ajkerdeshkantho.com : Rabbi630 :
বন্দরে রাতে বাড়িঘরে ঢিলে নিরাপত্তাহীনতায় পরিবার, তদন্তে পুলিশ - Ajker Deshkantho
বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫৮ অপরাহ্ন

বন্দরে রাতে বাড়িঘরে ঢিলে নিরাপত্তাহীনতায় পরিবার, তদন্তে পুলিশ

স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬

নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার শাহী মসজিদ এলাকার হিন্দু পরিবারের বাড়িঘরে ঢিল ছুড়ে মারার অভিযোগের তদন্তে নেমেছে পুলিশ। তবে, দুর্বৃত্তদের ঢিল ছোড়ার ঘটনার পর থেকে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে জানিয়েছে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।

তারা স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালামের হস্তক্ষেপ কামনা ও প্রশাসনের কাছ থেকে নিরাপত্তা নিশ্চিতের আশ্বাস চেয়েছেন।

ভুক্তভোগী রঞ্জিত চন্দ্র দাস (৫৪) বলেন, বন্দরের শাহী মসজিদ এলাকায় তাদের পূর্বপুরুষদের পাট্টা সূত্রে প্রাপ্ত প্রায় ৭ শতাংশ বসতভিটা ও ২৪ শতাংশ পুকুরের জমি রয়েছে। দীর্ঘ ১০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে তিনি ও তার শরিকদের প্রায় পাঁচটি পরিবার ওই এলাকায় শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে আসছেন। এলাকায় তাদের বাড়িটি ‘ধোপা বাড়ি’ নামেই পরিচিত।

 

তিনি দাবি করেন, জমি সংক্রান্ত বিরোধের বিষয়ে মহামান্য হাইকোর্ট ও নিম্ন আদালতের রায় তাদের পক্ষে রয়েছে। আদালতের রায়ের তথ্যসংবলিত একটি সাইনবোর্ড তারা নিজেদের জমিতে স্থাপন করেছিলেন। তবে প্রায় তিন মাস আগে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা সেই সাইনবোর্ড খুলে নিয়ে যায় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

রঞ্জিত চন্দ্র দাস বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে আসছি। আদালতের রায় আমাদের পক্ষে থাকার পরও বারবার ভয়ভীতি ও হামলার শিকার হচ্ছি। আমরা স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম এবং প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি, যেন আমাদের জানমাল ও সম্পত্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়।”

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ জুন রাত আনুমানিক ১০টার দিকে রঞ্জিত চন্দ্র দাসের বড় ভাই মানিক চন্দ্র দাস (৫৫) তাদের বসতভিটার এলাকায় অবস্থান করছিলেন। এ সময় পাশের সিকদার আব্দুল মালেক উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠের দিক থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা তাদের মন্দিরের বাউন্ডারিতে এলোপাতাড়ি ইট ও ঢিল নিক্ষেপ করে। পরে বিদ্যালয়ের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তির কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি জানান, কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তি জোরপূর্বক বিদ্যালয়ের গেট খুলতে চাপ দেয় এবং গেট না খুললে তালা ভেঙে ফেলার হুমকি দেয়।

বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর বন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জামাল উদ্দিনসহ পুলিশের সদস্যরা কয়েক দফায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন বলে জানা গেছে। পাশাপাশি অভিযোগের প্রেক্ষিতে সিকদার আব্দুল মালেক উচ্চ বিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ এবং দায়িত্বে থাকা নৈশপ্রহরীর সঙ্গেও কথা বলেছে পুলিশ। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে কাজ চলছে বলেও জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

বুধবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে বন্দর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মামুন ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “অভিযোগের বিষয়ে পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। অভিযুক্তদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।”

এ বিষয়ে সিকদার আব্দুল মালেক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহমুদ আলী বলেন, “বিদ্যালয়ের সামনে মসজিদ, মাদ্রাসা এবং সনাতন ধর্মাবলম্বী ভাই-বোনদের একটি পুরোনো বসতভিটা রয়েছে। আমরা দীর্ঘদিন ধরে তাদের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সহাবস্থানে বসবাস করে আসছি। তারা আমাদের অত্যন্ত বন্ধুসুলভ প্রতিবেশী। তাদের সঙ্গে এমন ঘটনা ঘটেছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। যেহেতু বিদ্যালয়ের কার্যক্রম বিকেল চারটা পর্যন্ত চলে এবং ঘটনাটি ঘটেছে রাতে, তাই এটি বহিরাগতদের মাধ্যমে সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে। তবে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণের চারপাশের বাউন্ডারি দেয়াল আংশিক হওয়ায় অনেক সময় বহিরাগতরা মাঠে প্রবেশ করে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটায়। যদিও রাতে আমাদের একজন নিরাপত্তাকর্মী দায়িত্বে থাকেন, আমরা তার কাছ থেকেও বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করছি। আশা করছি, শিগগিরই এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে।”

ভুক্তভোগী পরিবারটির দাবি, ঘটনার পর থেকে তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। ভবিষ্যতে তাদের জানমাল ও সম্পদের আরও বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করে তারা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন
© ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | দৈনিক আজকের দেশকন্ঠ
পোর্টাল বাস্তবায়নে : আজকের দেশকন্ঠ আইটি