1. voiceofnarayanagnj24@gmail.com : Salim Ahmed Dalim : Salim Ahmed Dalim
  2. info@ajkerdeshkantho.com : Rabbi630 :
ফতুল্লাবাসীর জলাবদ্ধতা দুর্ভোগের শেষ কবে? - Ajker Deshkantho
বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১১:৪০ অপরাহ্ন

ফতুল্লাবাসীর জলাবদ্ধতা দুর্ভোগের শেষ কবে?

 স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬

ফতুল্লা অঞ্চলের বাসিন্দারা প্রায় সময় জলাবদ্ধতায় ডুবে থাকে। সড়কে পানি মাড়িয়ে চলতে হয়। এক কথায় এ যেন ফতুল্লাবাসীর জন্য অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রায় ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা ব্যয়ে মেগা উদ্যোগ ‘ডিএনডি প্রজেক্ট’ বাস্তবায়ন করা হলেও, তার বিন্দুমাত্র সুফল পায়নি এ অঞ্চলের মানুষ। ফলে দিন দিন এ অঞ্চলের মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।

ফতুল্লার লালপুর, পৌষাপুকুর পাড়, টাগার পাড়, পাগলা, নন্দলালপুর, নয়ামাটি, মুসলিমপাড়া, শহীদ নগর, দৌলতপুর, আদর্শ নগর, নূরবাগ, পিলকুনী, শিয়াচর, লালখার বাসিন্দারা বছরের প্রায় সময় জলাবদ্ধতার মধ্যে চরম দুর্ভোগে থাকে।

এসব এলাকায় কলকারখানা বর্জের বিষাক্ত ক্যামিক্যাল যুক্ত ময়লা পানি বৃষ্টির পানির সঙ্গে মিশে উৎকর্ষ দুর্গন্ধসহ ছড়িযে পড়ছে নানা পানিবাহিত রোগ। এখানকার স্থানীয় বাসিন্দারা নিরুপায় হয়ে রিকশা, ভ্যান ও নৌকা দিয়ে যাতায়াত করে থাকে।

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে ডিএনডি প্রজেক্টের বর্তমান স্থবিরতা ও জলাবদ্ধতা নিরসন নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ আলোচনার পর ফতুল্লার পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা সচল করতে একটি বড় প্রস্তাবনা সামনে এসেছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, এই অঞ্চলের আওতাধীন ২৪টি খাল নিয়মিত খনন এবং এগুলোর পানির প্রবাহ সচল রাখতে হবে।

তবে এই খালগুলোর মালিকানা নিয়ে রয়েছে মালিকানা সংক্রান্ত জটিলতা। কোনটি পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের, আবার কোনোটি জেলা প্রশাসনের অধীনে। এ অবস্থায় নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, খালগুলো যার যার মালিকানায় রেখেই একটি বিশেষ চুক্তির মাধ্যমে রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনার পুরো দায়িত্ব দেওয়া হবে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) কাছে। সিটি করপোরেশন নিজ দায়িত্বে এই ২৪টি খাল খনন, সংস্কার এবং পানি প্রবাহের পথ সচল রাখবে। অর্থাৎ, ঘুরেফিরে ফতুল্লাবাসীর দীর্ঘদিনের এই পুঞ্জীভূত সমস্যার সমাধানের চাবিকাঠি শেষ পর্যন্ত সিটি করপোরেশনের হাতেই উঠছে।

সূত্র মতে জানা গেছে, ২০১৭ সালের ৫ই ডিসেম্বর ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা (ডিএনডি) প্রকল্পের কাজ শুরু করে সেনাবাহিনীর ২৪ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের অধীন ১৯ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়ন। এর আগে, প্রথম ধাপে ২০১৬ সালে একনেকের সভায় ডিএনডি প্রকল্পের জন্য ৫৫৮ কোটি টাকার এই মেগা প্রকল্প পাস হয়। পরবর্তীতে ডিএনডি এলাকায় নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন (দ্বিতীয় পর্যায়) (প্রথম সংশোধনী)’তে বরাদ্দ বাড়িয়ে প্রায় ১৩০০ কোটি টাকার অনুমোদন দেয়া হয়েছে। তবে প্রকল্পের অগ্রগতি আশানুরূপ না হওয়ায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতার কবলে পড়েছে ডিএনডিবাসী।

 

ফতুল্লার জলাবদ্ধতার সমাধান সিটিতে অন্তর্ভুক্তি

সারাবছরই ফতুল্লায় জলাবদ্ধ থাকে অনেক রাস্তা। আর বর্ষা এলে তো কথাই নেই, ভোগান্তি বাড়ে কয়েক গুণ। ফতুল্লা অঞ্চলের বাসিন্দাদের জন্য জলাবদ্ধতা যেন এক চিরস্থায়ী অভিশাপ। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এই অভিশাপ থেকে মুক্তি দিতে প্রায় ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা ব্যয়ে মেগা উদ্যোগ ‘ডিএনডি প্রজেক্ট’ বাস্তবায়ন করা হলেও, তার বিন্দুমাত্র সুফল পায়নি এ অঞ্চলের মানুষ। কোটি কোটি টাকা ব্যয়ের পরও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি না হওয়ায় ক্ষোভ ও হতাশায় দিন কাটছে স্থানীয়দের।

এমন চরম বাস্তবতায় এবার বর্তমান সরকারের কাছে নতুন করে স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন ফতুল্লাবাসী। এই দাবিকে জোরালো করে একই কথা বলে আসছেন এ অঞ্চলের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল আমিন। জাতীয় সংসদ থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীদের কাছে দফায় দফায় চিঠি পাঠিয়ে জলাবদ্ধতার এই যন্ত্রণা থেকে ফতুল্লাবাসীকে বাঁচানোর আকুতি জানিয়েছেন। একই সাথে তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, ফতুল্লার এই দীর্ঘমেয়াদী সমস্যা সমাধানের একমাত্র পথ পুরো অঞ্চলটিকে সিটি করপোরেশনের সেবার আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা।

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে ডিএনডি প্রজেক্টের বর্তমান স্থবিরতা ও জলাবদ্ধতা নিরসন নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ আলোচনার পর ফতুল্লার পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা সচল করতে একটি বড় প্রস্তাবনা সামনে এসেছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, এই অঞ্চলের আওতাধীন ২৪টি খাল নিয়মিত খনন এবং এগুলোর পানির প্রবাহ সচল রাখতে হবে।

তবে এই খালগুলোর মালিকানা নিয়ে রয়েছে মালিকানা সংক্রান্ত জটিলতা। কোনটি পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের, আবার কোনোটি জেলা প্রশাসনের অধীনে। এ অবস্থায় নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, খালগুলো যার যার মালিকানায় রেখেই একটি বিশেষ চুক্তির মাধ্যমে রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনার পুরো দায়িত্ব দেওয়া হবে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) কাছে। সিটি করপোরেশন নিজ দায়িত্বে এই ২৪টি খাল খনন, সংস্কার এবং পানি প্রবাহের পথ সচল রাখবে। অর্থাৎ, ঘুরেফিরে ফতুল্লাবাসীর দীর্ঘদিনের এই পুঞ্জীভূত সমস্যার সমাধানের চাবিকাঠি শেষ পর্যন্ত সিটি করপোরেশনের হাতেই উঠছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক রায়হান কবীর। তিনি বলেন, বিষয়গুলো প্রস্তাবনা গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হচ্ছে। চুক্তিগুলো এখন বাস্তবায়নের অপেক্ষায় আছে। খুব দ্রুতই সেই চুক্তি সম্পন্ন করা হবে। পাশাপাশি ভেতরের ড্রেন সংস্কার সহ জলাবদ্ধতা নিরসনে উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে সংস্কার কাজ করা হবে।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, ডিএনডি প্রজেক্টের নামে বিগত দিনে শুধু টাকার শ্রাদ্ধ হয়েছে, কাজের কাজ কিছুই হয়নি। সামান্য বৃষ্টিতেই ফতুল্লার রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি, এমনকি কলকারখানাও পানিতে তলিয়ে যায়। নোংরা ও দুর্গন্ধযুক্ত পানির কারণে চর্মরোগসহ নানা রোগব্যাধি এখন ফতুল্লাবাসীর নিত্যসঙ্গী।

বাসিন্দারা বলছেন, এই অঞ্চলে নাগরিক সুবিধা বলতে কিছু নেই। এখন আলোচনা উঠেছে সিটি করপোরেশনে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে ফতুল্লার চারটি ইউনিয়ন। যদি এই প্রস্তাবনা বাস্তবায়ন হয় এবং ড্রেন ও সড়ক পরিকল্পিত ভাবে সংস্কার করা যায় তাহলেই হয়তো হয়তো আমরা এই ভোগান্তি থেকে থেকে মুক্তি পাব।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন
© ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | দৈনিক আজকের দেশকন্ঠ
পোর্টাল বাস্তবায়নে : আজকের দেশকন্ঠ আইটি