নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের সৈয়দপুর এলাকায় তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতুর নিচে নিয়মনীতি উপেক্ষা করে পশুর হাট বসানোর অভিযোগ উঠেছে। গোগনগর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আক্তার হোসেন ও তার সহযোগীরা এই হাট পরিচালনা করছেন।
তবে সিটি করপোরেশন বলছে, ওই ওয়ার্ডে উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে দুʼটি হাট ছাড়া অন্য কোনো স্থানে পশুর হাট বসানোর অনুমতি দেওয়া হয়নি।
সরেজমিনে দেখা যায়, সৈয়দপুরের কয়লাঘাট এলাকার পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে বিআইডব্লিউটিএ এবং বিআইডব্লিউটিসির সীমানা প্রাচীরের ভেতরে বিশাল জায়গা জুড়ে গড়ে তোলা হয়েছে এই হাট। অথচ সরকারি এ দুই প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা এ ব্যাপারে কিছুই জানেন না বলে দাবি করেছেন।
এছাড়া, ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সাধারণত প্রতিটি হাটে বড় গেইট নির্মাণ এবং সেখানে ইজারাদারের নাম ঠিকানা স্পষ্টভাবে লেখা থাকলেও এই হাটে তা খুঁজেই পাওয়া যায়নি।
সৈয়দপুর এলাকার বাসিন্দা আশরাফ আলী বলেন, “গত বছরও এখানে ছোট একটা হাট হইছিল। এবার আরও বড় হইছে এই হাট। এলাকার বিএনপির লোকজনই তো এটা করছে। গত বছরও আক্তার ভাই ডাক আনছিল।”
এ এলাকার অন্তত আরও পাঁচজন ব্যক্তি জানিয়েছেন, হাটটি মূলত বিএনপি নেতা আক্তার হোসেনের তত্ত্বাবধানে স্থাপন করা হয়েছে। তার লোকজনই সরাসরি হাটটি পরিচালনার দায়িত্বে।
তবে, হাটের বিষয়ে জানতে চাইলে দায়িত্বে থাকা লোকজন সংবাদকর্মী পরিচয়ে পেলে কথা বলতে রাজি হননি। পরে হাটের দায়িত্বে থাকা এক ব্যক্তি দাবি করেন, সিটি করপোরেশনের সব কাগজপত্র আছে। এটা অবৈধ হাট না। তবে হাটের কাগজপত্র দেখতে চাইলে তিনি তা দেখাতে পারেননি।
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “১৮ নম্বর ওয়ার্ডে আমাদের অনুমোদিত দুটি হাট রয়েছে। সেতুর নিচে কোনো হাটের অনুমতি দেওয়া হয়নি। এটি অবৈধ হাট। ওই এলাকার এক বিএনপি নেতা আমাদের সিটি করপোরেশনের প্রশাসক সাহেবের দলীয় লোক। তিনি চেষ্টা করছেন কোনোভাবে এর বৈধতা নেওয়া যায় কিনা। তবে আমরা এর পক্ষে না। কারণ অলরেডি সিটির হাটগুলোর টেন্ডার হয়ে গেছে। এই হাট দিলে বিতর্ক হবে।”
এদিকে বিআইডব্লিউটিএʼর যুগ্ম পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “আমাদের জায়গায় কাউকে পশুর হাট বসানোর অনুমতি দেওয়া হয়নি। কেউ করে থাকলে তা অবৈধ। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে, ইজরা ছাড়া হাট পরিচালনার কথা অস্বীকার করেছেন গোগনগর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আক্তার হোসেন। তিনি বলেন, “গত বছর আমি এখানে হাট পরিচালনা করেছি। কিন্তু এবার আমার নামে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। এই এলাকার কিছু বিএনপি নেতা এটার সাথে জড়িত।”