আসামির ক্ষমতার দাপটে বাদী এখন আসামি
নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের সাবেক সহসভাপতি আনোয়ার হোসেন আনু হত্যা মামলার বাদী হয়েছেন তার বড় ভাই আবুল কাশেম বাদশা। সেই হত্যা মামলায় নিজ চাচীকে নিয়ে পালানো স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা রাসেল মাহমুদকে প্রধান আসামি করা হয়। পরে আসামি রাসেল ও তার স্ত্রী পাপিয়া আক্তার পান্না গ্রেফতার হয়ে দীর্ঘদিন কারাভোগ করে জামিনে মুক্তি পান।
এতে ক্ষোভে ফুঁসে উঠেন ঝুট সন্ত্রাসী ও স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা রাসেল মাহমুদ। এবার বিএনপি দলটি ক্ষমতার মসনদে বসলে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা পরিচয়ে রাসেল আরও বেপরোয়া হয়ে উঠে। এর ধারাবাহিকতায় ক্ষমতার অপব্যবহার করে বেশ কৌশলে আনু হত্যা মামলার বাদী আবুল কাশেম বাদশাকে বিষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মামলার আসামি করেন তিনি।
এরপর পরিকল্পনা অনুযায়ী আবুল কাশেম বাদশার পথরোধের পর লাঞ্ছিত করে তাকে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা রাসেল মাহমুদের অনুসারীরা। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাদশার পরিবারের সদস্যরা। তারা বলছেন, বাদশা কখনো রাজনীতি করেননি। মূলত হত্যা মামলার বাদী হওয়ায় ষড়যন্ত্র করে তাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়েছে আসামি পক্ষের লোকজন।
জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) আদালতে একটি মামলায় আদালতে হাজিরা দিতে গিয়েছিলেন আবুল কাশেম। হাজিরা দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে তাকে চাঁদমারী এলাকায় নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স ভবনের সামনে কয়েকজন যুবক তার পথ আটকে লাঞ্ছিত করে। এবং পরে পুলিশের কাছে তুলে দেয়।
নিহত আনুর পরিবারের সদস্যরা বলছেন, ফতুল্লা থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব রাসেল মাহমুদ হত্যা মামলাটির প্রধান আসামি।
মামলার পর বিভিন্ন সময় সে হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছিল। সুযোগ পেয়ে মামলার বাদী আবুল কাশেমকে রাস্তায় একা পেয়ে রাসেলের ১৫-২০ জন অনুসারী জোরপূর্বক পথরোধ করে তাকে লাঞ্ছিত করে এবং পরে পুলিশের কাছে তুলে দেয়।
গ্রেফতারের পর মামলার বাদী আবুল কাশেম বাদশা আদালত প্রাঙ্গনে বলেন, আমি একজন ব্যবসায়ী। আমি কোন পার্টি করিনা। আমার ছোট ভাই আনোয়ার হোসেন আনু নারায়ণগঞ্জ যুবদলের সহ সভাপতি পদে ছিল। তাকে হত্যার পর তার সেই মামলার আমি বাদী হয়েছি। মামলাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য ও আমাকে হয়রানি করার জন্য মামলার আসামিরা আমাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়েছে। আমি কোন অপরাধ করিনি। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।
তার বাবাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে উল্লেখ করে নাসরিন সুলতানা হ্যাপি বলেন, আমার বাবা একজন ব্যবসায়ী। তিনি কোন রাজনীতিক দলের সাথে জড়িত না। যদি সে কোন রাজনীতিক দলের সাথে জড়িত থাকে তাহলে পুলিশ-প্রশাসন তা তদন্ত করে দেখুক।
তিনি আরও বলেন, গত বছর আমার ছোট চাচু আনুকে হত্যার করার পর সেই মামলায় আমার বাবা বাদী হয়েছে। এখন আমার বাবাকে মামলা থেকে সরানোর জন্য মিথ্যা মামলায় তাকে ফাঁসিয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য মতে, আবুল কাশেমকে গত বছরের নভেম্বরে ফতুল্লা থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ওই মামলায় ৩৬ নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি কাশেম। এ কারণে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসে এবং পরবর্তীতে আদালতে প্রেরণ করে। তবে হত্যা মামলার আসামির অনুসারীরা তাকে লাঞ্ছিত করে পুলিশে দেবার বিষয়টি অস্বীকার করে পুলিশ।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ২৬ আগস্ট শহরের মাসদাইর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠের পশ্চিম পাশে হেলেনা সেঞ্চুরি এ্যাপার্টমেন্টের লিফটের ফাঁকা জায়গার নীচতলা থেকে যুবদল নেতা আনোয়ার হোসেন আনুর লাশ উদ্ধার করা হয়। সংবাদ পেয়ে পিবিআই ক্রাইমসিন টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে আলামত জব্দ সহ আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনায় জড়িত আসামিদের সনাক্ত করণ কার্যক্রম শুরু করে।
নিহত বিএনপি নেতা আনু হলেন দেওভোগ এলএন রোড এলাকার মৃত হাজী সায়েদ আলীর ছেলে ও মহানগর যুবদলের সাবেক সহ সভাপতি। এ ঘটনায় নিহতের ভাই বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় স্বেচ্ছাসেবকদল নেতা রাসেলসহ নিহতের স্ত্রী, সন্তান, শ্যালকসহ ৮ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। মামলা দায়েরের পর পুলিশ এই বছরের ৭ নভেম্বর রাসেল মাহমুদ ও তার স্ত্রী পাপিয়া আক্তার পান্নাকে গ্রেপ্তার করে। পরে যদিও তারা জামিনে বেরিয়ে আসে।
জামিনে মুক্তি পেয়ে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেন বিসিকের ঝুট সন্ত্রাসী ও স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা রাসেল মাহমুদ। মামলার বাদীকে নানাভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন সহ হুমকি দিয়ে আসছিলেন। তবে এসব হুমকিকে আমলে নেয়নি মামলার বাদী সহ সংশ্লিষ্টরা। তবে পরিকল্পনা অনুযায়ী ফতুল্লার একটি মামলার আসামি করা হয় আনু হত্যা মামলার বাদীকে। আর সেটিকে ট্রাম্পকার্ড হিসেবে ব্যবহার করে এবার মামলার বাদীকে আসামি বানিয়ে জেলে পাঠিয়েছেন এই ঝুট সন্ত্রাসী রাসেল।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ক্ষমতার দাপট ও বিসিকের ঝুট সন্ত্রাসীপনার কালো টাকা দিয়ে রীতিমত ধরাকে স্বরা জ্ঞান করে চলেন এই রাসেল। এর অংশ হিসেবে হত্যা মামলার বাদীকে আসামি বানিয়ে জেলে পাঠিয়েছেন তিনি।