নারায়ণগঞ্জের বন্দরে পূর্ব বিরোধের জেরে মাকসুদুর রহমান জুয়েল (৪৫) নামে এক ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দুজনকে আটক করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৯ মে) দুপুরে উপজেলার মদনগঞ্জ শান্তিনগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত জুয়েল শান্তিনগর এলাকার তাজুল ইসলামের ছেলে। তিনি ড্রেজার ব্যবসায়ী ও শীতলক্ষ্যা নদীতে বালু উত্তোলনের ইজারা পাওয়া এক ব্যক্তির সাথে কাজ করতেন। আটককৃত দুজন হলেন- আকাশ ও আশিক।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুপুরে জুয়েলের পূর্ব পরিচিত ব্যক্তি শ্যামল তাকে মোবাইল ফোনে কল করে শান্তিনগর নদীর তীরে ডেকে নেয়। সেখানে পূর্ব থেকে ওৎ পেতে থাকা একদল সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার ওপর হামলা চালায় ও এলোপাথাড়ি কুপিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে রেখে যায়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে পুলিশ গিয়ে মরদের উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেন।
পুলিশ ও স্বজনদের সূূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাতে শান্তিনগর এলাকায় পুলিশের একটি অভিযানের সময় কয়েকজন যুবকের সঙ্গে নিহত জুয়েলের বাগ্বিতণ্ডা হয়। এর জেরে মঙ্গলবার দুপুরে তার ওপর হামলা চালানো হয় এবং কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হলে তার মৃত্যু হয়।
অভিযোগ করে নিহতের ভাই সোহেল বলেন, স্থানীয় টিটু, আল-আমিন, ডিশ দুলাল ও পলাশের সাথে আমার ভাইয়ের ড্রেজার ব্যবসা নিয়ে দ্বন্দ্ব ছিল। এছাড়া তাদের মাদক ব্যবসায় আমার ভাই বাধা দিয়ে আসছিল। এতে তারা ক্ষুব্ধ হয়ে পরিকল্পিতভাবে শ্যামলকে দিয়ে ডেকে নিয়ে আমার ভাইয়ে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে। আমার ভাইয়ের খুনিদের বিচার চাই।
বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মুক্তার আশরাফ উদ্দিন বলেন, “গতরাতে কয়েকজন মাদকসেবিদের সাথে ভিকটিম জুয়েলের বাগ্বিতণ্ডা হয়। এর জের ধরে ওই গ্রুপের লোকজন তাকে একা পেয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে। পরে তার মৃত্যু হয়। ধারণা করা হচ্ছে, মাদক সংক্রান্ত ওই বিরোধকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় দুজনকে আটক করা হয়েছে। মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।