নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ এলাকার ঐতিহ্যবাহী জিউস পুকুর দীর্ঘদিন ধরে ময়লা-আবর্জনা ও কচুরিপানায় ভরে থাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছিল। অবশেষে নাসিক কর্তৃপক্ষ পুকুরটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার উদ্যোগ গ্রহণ করায় এলাকাবাসীর মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে পুকুরটির বিভিন্ন স্থানে ময়লা-আবর্জনা জমে পানি দূষিত হয়ে পড়েছিল। পুকুরের সৌন্দর্য যেমন নষ্ট হচ্ছিল, তেমনি পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্যও এটি ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে পচা-দুর্গন্ধ ছড়িয়ে আশপাশের বাসিন্দাদের দুর্ভোগ বাড়িয়ে তুলত।
শুক্রবার (৫জুন) সকালে কার্যক্রম শুরু হওয়ায় পুকুরের জমে থাকা আবর্জনা অপসারণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি আগাছা পরিষ্কার এবং পানির স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার কাজও চলছে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি, জিউস পুকুর শুধু একটি জলাশয় নয়, এটি দেওভোগের ঐতিহ্য ও ইতিহাসের অংশ। তাই নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে পুকুরটির সৌন্দর্য ও পরিবেশগত ভারসাম্য সংরক্ষণ করা প্রয়োজন।
স্থানীয় বাসিন্দারা আশা প্রকাশ করে বলেন, একবার পরিষ্কার করেই যেন দায়িত্ব শেষ না হয়। ভবিষ্যতে নিয়মিত পরিচর্যা ও নজরদারির মাধ্যমে পুকুরটিকে আগের সৌন্দর্যে ফিরিয়ে আনা হলে এটি এলাকাবাসীর জন্য একটি পরিচ্ছন্ন ও মনোরম পরিবেশ উপহার দেবে।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর জিউস পুকুর পরিষ্কারের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, এই উদ্যোগ শুধু একটি জলাশয় রক্ষাই নয়, বরং নারায়ণগঞ্জের ঐতিহ্য ও পরিবেশ সংরক্ষণের ক্ষেত্রেও একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নূর কুতুবুল আলম বলেন,দেওভোগের ঐতিহ্যবাহী জিউস পুকুরটি দীর্ঘদিন ধরে অযত্ন ও অবহেলার কারণে ময়লা-আবর্জনায় ভরে গিয়েছিল। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবির প্রেক্ষিতে এবং পরিবেশগত গুরুত্ব বিবেচনায় আমরা পুকুরটি পরিষ্কারের উদ্যোগ গ্রহণ করেছি।
তিনি আরও বলেন,ইতোমধ্যে জমে থাকা বর্জ্য অপসারণ ও আগাছা পরিষ্কারের কাজ শুরু হয়েছে। শুধু পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাই নয়, ভবিষ্যতে যাতে পুকুরটি আবারও দখল বা দূষণের শিকার না হয়, সেদিকেও নজর রাখা হবে। নগরবাসীর জন্য একটি পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করতে সিটি কর্পোরেশন ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।