নারায়ণগঞ্জ আদালতপাড়ায় দুই নারী বিক্রেতাকে লাঞ্ছিত করে তাদের খাবার ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে নারী আইনজীবী আমেনা বেগম শিল্পীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রতিবাদ করতে গেলে আইনজীবী মো. রফিক আহমেদের ওপর চড়াও হন এই নারী আইনজীবী ও তার সহযোগিরা। এ ঘটনায় বেশ কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
শনিবার (২৩ মে) সকালে নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সামনে এ ঘটনা ঘটে।
ওই ভিডিওতে দেখা যায়, দুই নারী বিক্রেতাকে মারধর ও লাঞ্ছিত করা হয়েছে। এমনকি তাদের মুখোশ খুলে নানান অকথ্য ভাষায় দুর্ব্যবহার করা হচ্ছে। এ সময় তাদের খাবার ফেলে দেওয়ায় আইনজীবী রফিক প্রতিবাদ করলে নারী আইনজীবী শিল্পী উল্টো তার উপর চড়াও হন। এবং খাবার ফেলে দেওয়ার কথা অকপটে স্বীকার করেন। এছাড়া আইনজীবী রফিককে দালাল বলেও সম্মোধন করেন শিল্পী।
আইনজীবী শিল্পীর হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে ভুক্তভোগী নারীরা বলেন, গত এক সপ্তাহ আগে আইনজীবী শিল্পী আমাদের আদালতে আসতে নিষেধ করে। পরে আদালতের অন্য আইনজীবীরা আমাদের আসার অনুমতি দেয়। এর ফলে আজ সকালে আমরা আদালতে আসলে আইনজীবী শিল্পী আমাদের দেখে আমাদের ওপর হামলা করে ও আমাদের খাবার ফেলে দেয়। আমাদের চশমা ভেঙে ফেলে ও মাস্ক এবং কাপড় নিয়ে টানা হেঁচড়া করে। এসব করে আমাদের জিনিসপত্র ভেঙে নিয়েও গেছে আবার আমাদের চোর বলে আখ্যা দিয়েছেন।
তারা আরও বলেন, আমরা রুটি-ভাজি তৈরি করে এখানে বিক্রি করি। দামে সাশ্রয় হওয়ায় অনেকে এ খাবার খেত। আমরা অসহায় এবং আমাদের কিছু করার ক্ষমতা নেই বলে এখানে এসে বসা।
এ বিষয়ে আইনজীবী রফিক আহমেদ বলেন, গত বৃহস্পতিবার জুনিয়র একজন আইনজীবী শিল্পী আমার সাথে বেয়াদবি করেছে। বারের সামনে নারী বিক্রেতার কাছ থেকে ঘরের তৈরি খাবার কম টাকায় কিনে খেয়ে পারি। একারণে সেই নারী বিক্রেতার কথা আমি জানতে চেয়েছি। এবং তাদের কেন উঠিয়ে দেওয়া হয়েছে সে বিষয়ে জানতে চাইলে শিল্পী আমার সাথে বেয়াদবী করে ও খারাপ ব্যবহার করে। সে মিথ্যা বক্তব্য দিয়েছে ও সারা দেশে আইনজীবীদের ভাবমূর্তি নষ্ট করেছে। সেই দিনের ঘটনার ভিডিও ফুটেজ আমার কাছেও আছে আইনজীবী সমিতির কাছেও আছে। সে কার ইশারায় কার ইন্ধনে মিথ্যা অভিযোগ করেছে তার বিচার করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আজ সকালে শিল্পী আদালতে এসে অমানবিক কাজ করেছে। সে ওই দুই নারী বিক্রেতাকে মারধর করে কাপড় খুলে ফেলেছে। তাদের বিভিন্ন খাবার ফেলে নষ্ট করে ফেলেছে শিল্পী। সে এরুপ তাণ্ডব ঘটিয়েছে। এ কথা শুনে আমি তার কাছে জিজ্ঞাসা করলে উল্টো আমার সাথে খারাপ ব্যবহার করে। এ ঘটনার ভিডিও ফুটে রক্ষিত আছে।
এ বিষয়ে মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু বলেন, ‘আজকে ওই দুই মহিলা আদালতে আসলে তাদের মালামাল ফেলে দিয়েছে ও তাদের মারধর করেছে আইনজীবী শিল্পী। ওই মহিলা দুজনের স্বামী নেই, তারা অসহায়। কোন রকমে এই ব্যবসাটুকু করে তাদের সংসার চলে।
নারায়ণগঞ্জ আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সরকার হুমায়ুন কবির বলেন, দুই পক্ষ আইজীবী সমিতিতে অভিযোগ করেছে। এসব ঘটনায় উভয় পক্ষকে শোকজ করা হয়েছে। ১৫ দিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর জন্য বলা হয়েছে। আর আজ দুই নারী বিক্রেতার উপর হামলার বিষয়ে শুনেছি। ঈদের পরে এসব বিষয় নিয়ে বসে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার (২১ মে) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতি ভবনের সামনে হকার সরানোকে কেন্দ্র করে বাক-বিতণ্ডার জেরে এক নারী আইনজীবীকে মারধর ও গালিগালাজের অভিযোগ উঠেছে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু ও আইনজীবী অ্যাডভোকেট রফিক আহমেদের বিরুদ্ধে। পরে এ ঘটনায় জেলা আইনজীবী সমিতির নেতাদের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন ভুক্তভোগী সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আমেনা আক্তার শিল্পী।