নারায়ণগঞ্জের অবকাঠামোগত উন্নয়নকে এগিয়ে নিতে চীন সরকারের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশন (সিআরবিসি)-এর একটি প্রতিনিধিদল নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মো. সাখাওয়াত হোসেন খানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। এ সময় শীতলক্ষ্যা নদীর ওপর প্রস্তাবিত নবীগঞ্জ সেতু, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প এবং পানি পরিশোধন প্লান্ট নির্মাণসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
সোমবার (১ জুন) নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে নারায়ণগঞ্জ নগরীর যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়ন, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সম্ভাব্য বিভিন্ন প্রকল্প নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। বিশেষ গুরুত্ব পায় শীতলক্ষ্যা নদীর ওপর বহুল প্রত্যাশিত নবীগঞ্জ সেতু নির্মাণের বিষয়টি।
সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, ২০০৬ সালের ৮ অক্টোবর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া নবীগঞ্জ খেয়াঘাট এলাকায় এ সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের অপেক্ষায় রয়েছে স্থানীয় জনগণ।
নবীগঞ্জ সেতু বাস্তবায়িত হলে নারায়ণগঞ্জ শহর ও বন্দর এলাকার মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপিত হবে। এতে যাতায়াতের সময় ও ব্যয় কমার পাশাপাশি শিল্প, বাণিজ্য এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি সঞ্চার হবে।
সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে চীনা প্রতিনিধিদল প্রস্তাবিত নবীগঞ্জ সেতুর স্থান সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। এ সময় তাদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম, নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু এবং মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল কাউসার আশা।
পরিদর্শন শেষে সিআরবিসি প্রতিনিধিদল নবীগঞ্জ সেতুসহ গুরুত্বপূর্ণ নাগরিক অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পানি পরিশোধন ব্যবস্থার উন্নয়নের মাধ্যমে একটি পরিচ্ছন্ন, টেকসই ও নাগরিকবান্ধব নারায়ণগঞ্জ গড়ে তুলতে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
এছাড়া নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. নূর কুতুবুল আলম, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) মো. আজগর হোসেন, নির্বাহী প্রকৌশলী (সিভিল) মোহাম্মদ ইসমাইল চৌধুরী এবং নগর পরিকল্পনাবিদ মো. মঈনুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।