নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার মাসদাইরে একটি পোশাক কারখানা কর্তৃপক্ষের কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে প্রতিষ্ঠানের গাড়িচালককে কুপিয়ে জখমের অভিযোগে সন্ত্রাসী কার্যক্রমের জন্য অভিযুক্ত সাব্বির ওরফে চশমা সাব্বির ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে থানায়।
শনিবার (২৪ মে) রাতে কারখানার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার (সিইও) মুজিবুর রহমানের বাড়ি থেকে ফেরার পথে সন্ত্রাসী হামলার শিকার হন গাড়িচালক মো. শরিফ।
পঞ্চবটির আরএস নিট কম্পোজিটের এ গাড়িচালক পরে ফতুল্লা মডেল থানায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন।
এ মামলায় মাসদাইর গুদারাঘাট এলাকার স্বপন মিয়ার ছেলে সাব্বির ওরেফ চশমা সাব্বির, মাসদাইর ঘোষেরবাগ এলাকার ইউসুফ আলীর ছেলে হৃদয় ওরেফ চক্ষু হৃদয়, ঘোষেরবাগ এলাকার আলী মিয়ার ছেলে জাহিন ও মাসদাইর বাজার এলাকার নাসির কসাইয়ের ছেলে সেলিম কসাইকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাত আনুমানিক ৯টার দিকে ফতুল্লার পঞ্চবটি অ্যাডভেঞ্চার ল্যান্ড পার্ক সংলগ্ন আরএস কোম্পাজিট লিমিটেডের গাড়িচালক শরিফ হোসেন অফিসিয়াল কাজ সেরে প্রতিষ্ঠানের সিইও মুজিবুর রহমানের মাসদাইরের বাড়ির আসেন। সেখান থেকে ফেরার সময় আসামিরা চালকের পথরোধ করে। আসামিরা জানায়, সিইও সাহেব তাদের চাঁদার টাকা না দিয়ে চলে গেছেন, তাই চালককেই ১০ লাখ টাকা পরিশোধ করতে হবে। না দিলে প্রাণনাশের হুমকিও দেয় তারা।
শরিফ হোসেন চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে আসামিরা চাপাতি, চাইনিজ কুড়াল, ছোরা, লোহার রড ও এসএস পাইপসহ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। এতে তার নাকের নিচে ও ডান হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়।
পরে স্থানীয় লোকজন ও ফতুল্লা থানার টহলরত পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তাকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি করে। চিকিৎসা শেষে থানায় এসে এজাহার দায়ের করেন তিনি।
এদিকে, এ ঘটনার পর শনিবার রাতেই মাসদাইরের ওই এলাকায় ডিবি পুলিশ ও র্যাব বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় হামলায় জড়িত চশমা সাব্বির ও তার সহযোগীদের পাওয়া যায়নি। তবে সাব্বিরের স্ত্রীকে জিজ্ঞেসাবাদের জন্য নিয়ে যায় পুলিশ।