নারায়ণগঞ্জ মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি সাখাওয়াত ইসলাম রানা ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে এক যুবককে অপহরণের ঘটনার নিখোঁজ শুভর লাশ শনাক্ত করেছে পুলিশ। রবিবার (৫ এপ্রিল) দুপুরে শুভর মরদেহ শনাক্ত করে নিহতের স্বজনরা। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
নিহত শুভ ফতুল্লার পূর্ব ইসদাইর রসুলবাগের ঝুট ব্যবসায়ী মো. সোহেলের ছেলে। গ্রেফতার আসামিরা হলেন- সাব্বির, রাজ্জাক ও ওয়াসিম।
জানা গেছে, গত ২৯ মার্চ সন্ধ্যায় ফতুল্লার ইসদাইর রেললাইন এলাকা থেকে অপহরণের শিকার হন শুভ। অপহরণের পরদিন ৩০ মার্চ সকালে রূপগঞ্জ থানার কাঞ্চন পৌরসভার কালনী এলাকা থেকে অজ্ঞাত এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ, যা পরে শুভর মরদেহ হিসেবে শনাক্ত করা হয়। রবিবার (৫ এপ্রিল) সকালে সেই অজ্ঞাত লাশের ছবি দেখে শুভর স্বজনরা শনাক্ত করে।
এ ঘটনায় গত ১ এপ্রিল শুভকে অপহরণের অভিযোগে শুভর মা মাকসুদা বেগম বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলায় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা সাখাওয়াত ইসলাম রানাকে প্রধান আসামি সহ ১০ জনকে অভিযুক্ত আসামি করা হয়।
মামলার এজাহারে শুভর মা মাকসুদা বেগম বলেন, এ ঘটনার ১৫ থেকে ২০ দিন আগে চাষাঢ়া রেললাইন এলাকায় সাখাওয়াত ইসলাম রানার সঙ্গে শুভর বাকবিত-া হয়। এরপর থেকে রানা ও তার সহযোগীরা শুভকে হত্যার হুমকি দিচ্ছিলো। এর ধারাবাহিকতায় গত ২৯ মার্চ সন্ধ্যায় রানার অনুসারী শাকিল আমার ছেলেকে ফোন করে ফতুল্লার পূর্ব ইসদাইর রেললাইন এলাকায় ডেনে নেয়। সেখানে যাওয়ার পর রানা সহ তার অনুসারীরা আমার ছেলে শুভকে এলোপাথারি মারধর করে। এর এক পর্যায়ে শুভ মাথায় আঘাত পেয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে একটি ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকে করে তাকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। ওই সময় ইজিবাইকের পেছনে পেছনে শুভর মোটরসাইকেলটি চালিয়ে নিয়ে যায় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা রানা। এরপর থেকে শুভ ও তার মোটরসাইকেলটির কোন সন্ধান পাওয়া যায়নি।
বিষয়টি নিশ্চিত করে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. হাসিনুজ্জামান বলেন, আজ সকালে শুভর লাশ শনাক্ত করে স্বজনরা। এতে রূপগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা হয়েছে। এর আগে ওই যুবককে অপহরণের ঘটনায় ফতুল্লা থানায় একটি অপহরণ মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।