1. voiceofnarayanagnj24@gmail.com : Salim Ahmed Dalim : Salim Ahmed Dalim
  2. info@ajkerdeshkantho.com : Rabbi630 :
অপহরণের পর খুনের আসামি রানা - Ajker Deshkantho
বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৫৭ পূর্বাহ্ন

অপহরণের পর খুনের আসামি রানা

স্টাফ রিপোর্টার 
  • প্রকাশিত : সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৬

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার ইসদাইরের মাহফুজুর রহমান শুভ নামে এক যুবককে অপহরণের অভিযোগে মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি সাখাওয়াত ইসলাম রানার ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে মামলা হয়। এই ঘটনার ৭দিন পর অপহৃত যুবক শুভর মরদেহ শনাক্ত করে নিহতের স্বজনরা। মরদেহটি মাথা, মুখম-ল, হাত বা ও বুকে আঘাতের চিহ্ন ছিল। নীলাফুলা জখম ছিল। স্বজনরা বলছেন, রানার নেতৃত্বে তার অনুসারীরা শুভকে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ করেন। এছাড়া পুরো ঘটনা প্রবাহ অনুযায়ী এবার হত্যা মামলার আসামি হতে যাচ্ছেন ক্রসফায়ারে নিহত ডেভিডের ভাগ্নে ও স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা সাখাওয়াত ইসলাম রানা।

জানা গেছে, গত ২৯ মার্চ সন্ধ্যায় ফতুল্লার ইসদাইর রেললাইন এলাকা থেকে অপহরণের শিকার হন শুভ। অপহরণের পরদিন ৩০ মার্চ সকালে রূপগঞ্জ থানার কাঞ্চন পৌরসভার কালনী এলাকা থেকে অজ্ঞাত এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ, যা পরে শুভর মরদেহ হিসেবে শনাক্ত করা হয়। রবিবার (৫ এপ্রিল) সকালে সেই অজ্ঞাত লাশের ছবি দেখে শুভর স্বজনরা শনাক্ত করে।
এ ঘটনায় গত ১ এপ্রিল শুভকে অপহরণের অভিযোগে শুভর মা মাকসুদা বেগম বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলায় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা সাখাওয়াত ইসলাম রানাকে প্রধান আসামি সহ ১০ জনকে অভিযুক্ত আসামি করা হয়।

মামলার এজাহারে শুভর মা মাকসুদা বেগম বলেন, এ ঘটনার ১৫ থেকে ২০ দিন আগে চাষাঢ়া রেললাইন এলাকায় সাখাওয়াত ইসলাম রানার সঙ্গে শুভর বাকবিত-া হয়। এরপর থেকে রানা ও তার সহযোগীরা শুভকে হত্যার হুমকি দিচ্ছিলো। এর ধারাবাহিকতায় গত ২৯ মার্চ সন্ধ্যায় রানার অনুসারী শাকিল আমার ছেলেকে ফোন করে ফতুল্লার পূর্ব ইসদাইর রেললাইন এলাকায় ডেনে নেয়। সেখানে যাওয়ার পর রানা সহ তার অনুসারীরা আমার ছেলে শুভকে এলোপাথারি মারধর করে। এর এক পর্যায়ে শুভ মাথায় আঘাত পেয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে একটি ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকে করে তাকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। ওই সময় ইজিবাইকের পেছনে পেছনে শুভর মোটরসাইকেলটি চালিয়ে নিয়ে যায় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা রানা। এরপর থেকে শুভ ও তার মোটরসাইকেলটির কোন সন্ধান পাওয়া যায়নি।

তবে লাশ শনাক্তের পর কান্নায় ভেঙে পড়েন নিহত শুভর মা ও মামলার বাদী মাকসুদা বেগম। তিনি বলেন, “পুলিশ পরশুদিনও বলেছে, আপনার ছেলেকে নিতে চাইলে রানার নাম দিয়েন না, আপনার ছেলেকে বের করে দিচ্ছি। রানার কাছে সে স্পেশাল ট্রিটমেন্টে আছে। পুলিশ শুরুতেই আসামিগোরে ধরলে আমার পোলাটারে অন্তত জীবিত পাইতাম। আমি রানাসহ সবার বিচার চাই।”
হত্যাকান্ডের সাথে রানা জড়িত রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, হত্যাকান্ডের সঙ্গে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা রানা জড়িত। সে ডেভিডের ভাগ্নে। সে আমার ছেলেকে হত্যা করেছে। আমি তাকে বার বার বলছি আমার ছেলেরে ফিরিয়ে দেও, কিন্তু দিল না। পুলিশও আমাদের সঙ্গে ছয় নয় করেছে। পুলিশ হত্যাকারীদের পক্ষ নিয়েছে।
এ প্রতিবেদকের হাতে আসা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ‘একটি গ্যারেজের সামনে সাখাওয়াত ইসলাম রানাসহ কয়েকজন দাঁড়িয়ে আছেন। তর্কের এক পর্যায়ে ছুরি হাতে রানা ও তার সহযোগীদের ধাওয়া দেন শুভ।’ আর সেই হামলার জেরে প্রতিশোধ নিতে শুভকে হত্যা করা হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।
শুভর পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, ঘটনাটিতে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা রানা জড়িত থাকায় পুলিশ শুরু থেকেই তদন্তে তেমন গুরুত্ব দেয়নি। এমনকি রানার নাম বাদ দিয়ে মামলা করার পরামর্শ দিয়েছিল বলেও অভিযোগ।

সাখাওয়াত ইসলাম রানা ২০০৫ সালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মারা যাওয়া যুবদলের সেই সময়ের ক্যাডার মমিনউল্লাহ ডেভিডের ভাগ্নে। তিনি নারায়ণগঞ্জ মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি পদে থাকার সুবাদে ক্ষমতার অপব্যবহার করে সন্ত্রাসীপনা সহ পরিবহন সেক্টরে প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। এছাড়া নানা অপকর্ম করে পার পেয়ে গেছেন দলের পদ পদবীর কারণে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অপহরণের পর এবার হত্যা মামলার আসামি হতে যাচ্ছেন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা রানা। তাছাড়া বাদী ও ভুক্তভোগী পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী এই রানা হবে এই হত্যা মামলার আসামি।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন
© ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | দৈনিক আজকের দেশকন্ঠ
পোর্টাল বাস্তবায়নে : আজকের দেশকন্ঠ আইটি