নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও মহানগর বিএনপি নেতা জাকির খান দীর্ঘদিন ধরে ক্লিন ইমেজ ধরে রেখেছেন। নেই কোন বিতর্কের ছিটে ফোটা। উল্টো সমাজ সেবামূলক নানা কর্মকা- করে তিনি বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন। দলের ইমেজ অক্ষুন্ন রাখার জন্য নানা কাজ করে বেশ প্রশংসিত হয়েছেন। এতে বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ে ক্রমশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন জাকির খান। ধীরে ধীরে তার গ্রহণযোগ্যতা বাড়ছে। বিএনপির বিভিন্ন দায়িত্বশীল পদে তাকে দেখতে চাইছে বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের রাজনীতিবিদরা।
একাধিক সূত্র বলছে, ব্যবসায়ী সাব্বির হত্যা মামলায় জাকির খান সহ তার পরিবারের সদস্যদের আসামি করা হয়। তবে এই মিথ্যা মামলা থেকে তিনি খালাস পেয়ে এখন পর্যন্ত ক্লিন ইমেজ ধরে রেখেছেন।
জানা গেছে, শহরে যানজট নিরসনে জাকির খানের উদ্যোগে বিভিন্ন পয়েন্টে পয়েন্টে যানজট নিরসন কর্মী রাখা হয়েছে। এতে প্রশাসন সহ বিভিন্ন দপ্তরে তিনি বেশ প্রশংসিত হয়েছেন। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পূজার অনুষ্ঠানে আর্থিক সহায়তা, ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে দুই হাজার পরিবারের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণ করেছেন। রমজানে বিভিন্ন মাদ্রসার ছাত্রদের সাথে ইফতার করেছেন।
সদ্য অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জেলার ৫টি আসন সহ আশেপাশের বিভিন্ন জেলার বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়েছেন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও মির্জা আব্বাসের আসনেও বিএনপির পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়েছেন জাকির খান।
এতে তৃণমূল বিএনপিতে জায়গা করে নিয়েছেন জাকির খান। দলটির একটি বড় অংশ এখন তাকে দায়িত্বশীল পদে দেখতে চাইছেন।
দলীয় সূত্র জানা গেছে, ১৯৮৯ সালে জাতীয় পার্টির সাবেক এমপি নাসিম ওসমানের হাত ধরে জাতীয় পার্টির ছাত্রসমাজে যোগ দেন জাকির খান। তবে ১৯৯১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর জাকির খানের সঙ্গে নাসিম ওসমানের বিরোধ বাধে। পরে জাকির খান বিএনপি নেতা কামালউদ্দিন মৃধার নেতৃত্বে বেগম খালেদা জিয়ার হাত ধরে ১৯৯৪ সালে বিএনপিতে যোগ দেন। ১৯৯৬ সালে বিএনপি সরকারের শেষ দিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল মতিন চৌধুরীর নাতি হিসেবে শহরে পরিচিত হয়ে ওঠেন জাকির খান। ২০০১ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে কারাবন্দি হন তিনি।
২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পরও প্রায় ৫ মাস তিনি জেলে থাকেন। ২০০৩ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারী সাব্বির আলম খন্দকার খুন হওয়ার পর এ মামলার আসামি হওয়ায় তিনি নারায়ণগঞ্জ ছেড়ে থাইল্যান্ডের সুকুমবিকে কয়েক কোটি টাকা দিয়ে ’গ্রেস’ নামে ৮তলা বিশিষ্ট একটি থ্রি-স্টার হোটেল কেনেন। এরপর তিনি দেশে আসলে তাকে গ্রেফতার করা হয়। সেই মামলায় তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে বিভিন্ন সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিকে আদালত সেই মামলা থেকে তাকে খালাস প্রদান করেন। মামলা থেকে খালাস পেয়ে তিনি শহরে বিশাল শো-ডাউন করেন।