1. voiceofnarayanagnj24@gmail.com : Salim Ahmed Dalim : Salim Ahmed Dalim
  2. info@ajkerdeshkantho.com : Rabbi630 :
পুলিশের কর্মকান্ডে নানা বিতর্ক - Ajker Deshkantho
বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০১ পূর্বাহ্ন

পুলিশের কর্মকান্ডে নানা বিতর্ক

স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশিত : বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬

একের পর এক নানা কর্মকান্ডের মধ্য দিয়ে ফের আলোচনায় উঠে আসছে পুলিশের নাম। কখনো অভিযোগের আঙুল উঠছে পুলিশের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। আবার কখনো হামলার শিকার হচ্ছে পুলিশ। ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ প্রায় সময় উঠছে। তবে এবার পুলিশ হেফাজত থেকে আসামি পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা ও ঘুষ ফেরত দেওয়া সহ অবরুদ্ধ হওয়ার ঘটনা রীতিমত টক অব দ্যা টাউনে পরিণত হয়েছে। এতে পুরো জেলায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পুলিশের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তার জন্য পুরো ডিপার্টমেন্টের সম্মান ক্ষুন্ন হয়। তবে এসবের আড়ালে অনেক পুলিশের কর্মকর্তা বেশ ভালো কাজ করে সুনাম অর্জন করে যাচ্ছেন। আবার অনেকে জীবন বিপন্ন করে দায়িত্ব পালন করে ডিপার্টমেন্টের মাথা আরও উচু করছেন।

জানা গেছে, আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ঘুষ নিয়েছেন নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে জহিরুল ইসলাম নামের এক পুলিশ কর্মকর্তা। পরে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ করায় ধাপে ধাপে তিনি সেই টাকা ফেরত দিচ্ছিলেন। কিন্তু ভুক্তভোগীকে মিথ্যা সাক্ষ্য দিতে চেষ্টা করার অভিযোগে ওই পুলিশ কর্মকর্তা (এএসআই) জনতার হাতে অবরুদ্ধ হয়েছেন। পরে থানার হস্তক্ষেপে তিনি উদ্ধার হন। সোমবার (৩০ মার্চ) দুপুরে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের চৌধুরীবাড়ী বাজারে এই ঘটনা ঘটে।

অবরুদ্ধ হওয়া পুলিশ কর্মকর্তা এএসআই পদে বর্তমানে ফতুল্লা মডেল থানায় কর্মরত রয়েছেন। তিনি ইতিপূর্বে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় কর্মরত থাকাকালে ঘুষ আদায় করেছেন বলে অভিযোগ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এএসআই জহিরুল ইসলাম সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় কর্মরত থাকাকালে স্থানীয় এক বৃদ্ধ ইসহাক মিয়ার কাছ থেকে নগদ ১ লাখ টাকা এবং ৩২ হাজার টাকার একটি মোবাইল ফোন ঘুষ হিসেবে নেন। বিষয়টি নিয়ে পুলিশ সদর দপ্তরে (হেডকোয়ার্টার্সে) অভিযোগ করা হলে তিনি ভুক্তভোগীকে টাকা ফেরত দিচ্ছিলেন এবং মিথ্যা সাক্ষ্য দিতে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেন।
ভুক্তভোগী ইসহাক মিয়ার ছেলে মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘৩ নভেম্বর পুলিশ কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম আমাদের বাসায় এসে আমার বাবাকে আওয়ামী লীগ নেতা দাবি করে পাঁচ-ছয়টি মামলার ভয় দেখিয়ে জিম্মি করেন। সেদিন তিনি আমাদের ওয়ার্ড কাউন্সিলরের সঙ্গে আমার বাবার থাকা ছবি দেখিয়ে গ্রেপ্তারের ভয় দেখান এবং গ্রেপ্তার এড়াতে মোটা অঙ্কের অর্থ দাবি করেন। তখন আমরা মামলার ভয়ে নিরুপায় হয়ে অনেক দর-কষাকষির মাধ্যমে বাধ্য হয়ে তাঁকে নগদ ১ লাখ টাকা দিই। দাবি করা টাকা নেওয়ার একপর্যায়ে তিনি একটি মোবাইল ফোনও দাবি করেন এবং তাঁর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ৫ নভেম্বর তাঁকে ৩২ হাজার টাকায় একটি মোবাইল ফোন কিনে দিই।’

সাইফুল ইসলাম আরও বলেন, ‘এই ঘটনা নিয়ে পরে পুলিশ সদর দপ্তরে অভিযোগ দিলে তদন্ত কর্মকর্তারা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং আমরা বিস্তারিত উপস্থাপন করি। এরপরই জহিরুল ইসলাম আমাদের সঙ্গে কয়েক দফায় দেখা করে ম্যানেজ করার চেষ্টা করেন। তিনি দুই দফায় আমাদেরকে ৯০ হাজার টাকা ফেরতও দেন। হঠাৎ আজ এসে বাকি টাকা ফেরতসহ প্রয়োজনে বাড়তি টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেন এবং আমাদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনাটি মিথ্যা বলে উপস্থাপন করার প্রস্তাব করেন। তাঁর এমন প্রস্তাবকে আমরা প্রত্যাখ্যান করলে আমাদের ওপর চড়াও হয়ে হুমকি দেন। এরপর একপর্যায়ে স্থানীয় বাসিন্দারা এসে ঘটনা সম্পর্কে শুনে তাঁকে অবরুদ্ধ করেন।’

এদিকে গত ৩০ মার্চ নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার থানা থেকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে গ্রেফতার এক আসামি পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পলাতক আসামি ইসমাঈল উপজেলার চরকমলাপুর এলাকার হাবিবুল্লাহর ছেলে।

পুলিশের একাধিক সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার ইসমাঈল নামে ৩০ বছর বয়সী এক যুবককে আটক করে আড়াইহাজার থানায় আনা হয়। পরে থানা পুলিশের সদস্যদের ‘অসাবধানতায়’ ওই ব্যক্তি কৌশলে পালিয়ে যান।

মামলার নথিসূত্রে জানা যায়, জমি সংক্রান্ত বিরোধে গত ২৩ মার্চ স্থানীয় বিল্লাল হোসেন ও তার পরিবারের উপর প্রতিপক্ষের লোকজন হামলা চালায়। এ ঘটনায় বিল্লাল বাদী হয়ে আড়াইহাজার থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় ১৩ জনকে এজাহারনামীয় এবং আরও কয়েকজনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়। ইসমাঈলও ছিলেন ওই মামলার এজাহারভুক্ত আসামি।
থানা পুলিশের সূত্র জানায়, উপপরিদর্শক অজিত কুমারের নেতৃত্বে এক অভিযানে সোমবার আটক করা হয় ইসমাঈলকে। পরে থানা এনে থানার সেকেন্ড অফিসার উপপরিদর্শক জহিরুল ইসলামের কক্ষে বসানো হয়। পুলিশ সদস্যদের চোখ এড়িয়ে কৌশলে সেখান থেকে পালিয়ে যান ওই আসামি।

গত ১৫ মার্চ বিকেলে শহরের উকিলপাড়া রেল লাইন সংলগ্ন এলাকায় নারায়ণগঞ্জ রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমান ও কনস্টেবল আরিফুল ইসলাম আটকে রেখে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দুজনকে আটক করেছে পুলিশ। আটককৃত দুজন হলেন- অনিক (২৮) ও মিস্টার (২৬)। এ ঘটনায় পরে বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বিকেল সাড়ে ৫ টার দিকে শহরের উকিলপাড়া রেল লাইন সংলগ্ন রেল লাইনের পাশে টহলরত অবস্থায় নারায়ণগঞ্জ রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমান ও তার সাথে থাকা কনস্টেবল আরিফুল ইসলাম মাদক বিক্রি ও সেবনের দৃশ্য দেখতে পান। এ সময় তারা দৌঁড়ে গিয়ে দুজনকে গাঁজা সহ আটক করেন। তবে আটককৃতদের সঙ্গী ও সহযোগি ৫-৬ জন এসে পুলিশের কর্মকর্তা সহ সদস্যের ওপর হামলা চালায় ও মারধর করে। এতে এসআই মিজানুর রহমান এর ব্যবহৃত মোবাইল ও মানিব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে যায়। পরে তারা দৌড়ে প্রথমে খানপুর হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা গ্রহণ করে। পরে রাতে অভিযান চালিয়ে অনিক ও মিস্টার নামে দুজনকে আটক করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এদিকে এ ঘটনার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। ওই ভিডিওতে দেখা যায়, হয়রানির অভিযোগ তুলে পুলিশকে মারধর করার অভিযোগ তুলেছে বেশ কয়েকজন যুবক। এ সময় পুলিশের পোশাক ধরে টানা হেঁচড়া করছে কয়েকজন যুবক। আর সেই সাথে পুলিশকে এলোপাথারি কিল-ঘুষি সহ লাথি মারা হচ্ছে। ফলে এ ঘটনা নিয়ে ধু¤্রােজাল তৈরি হয়েছে।

এর আগে, গত ৯ মার্চ ভোরে নারায়ণগঞ্জ শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কের নিতাইগঞ্জ এলাকায় নগর ভবনের সামনে ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন লুৎফর রহমান নামে পুলিশের একজন দায়িত্বরত কর্মকর্তা। ছিনতাইকারীরা অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তার সরকারি পিস্তল লুট করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। আক্রান্ত লুৎফর রহমান নারায়ণগঞ্জ সদরের শীতলক্ষ্যা পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই)।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভোরে টহল টিমে বেশ কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা মন্ডলপাড়া ব্রিজের দিকে দায়িত্ব পালন করছিল। দায়িত্ব পালনকালে নারায়ণগঞ্জ সদরের শীতলক্ষ্যা পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই লুৎফর রহমান টয়লেট ব্যবহারের জন্য টিম থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। এ সময় তার সঙ্গে নিজের মোটরসাইকেল ছিল। পথে তিনজন ছিনতাইকারী তার পথরোধ করে এবং চাপাতি দিয়ে তাকে আঘাত করার চেষ্টা করে। তিনি সরে গেলে চাপাতি আঘাত থেকে বেঁচে যান। পরে তার সঙ্গে থাকা সরকারি পিস্তলটি লুট করে নিয়ে যায়। এ ঘটনার সময় তিনি পুলিশের পোশাকে ছিলেন।

পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে মিশাল ওরফে বিশাল নামে এক যুবককে আটক করে। সে অস্ত্র ছিনতাইয়ের ঘটনা স্বীকার করেছে। পরে তার দেওয়া তথ্য অনাযায়ী বন্দর ফায়ার সার্ভিস স্টেশন এলাকা থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় পুলিশের ছিনতাই হওয়া পিস্তল সহ ২টি ম্যাগাজিন ও ১৬ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন
© ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | দৈনিক আজকের দেশকন্ঠ
পোর্টাল বাস্তবায়নে : আজকের দেশকন্ঠ আইটি