হাজীগঞ্জ উপজেলার রাজারগাঁও ইউনিয়নের ভূমি সংক্রান্ত বিরোধে
প্রতিপক্ষের হামলায় এসএসসি পরীক্ষার্থীসহ একই পরিবারের ৪ জন আহত
মেহেদী হাছান!!
চাঁদপুর জেলার হাজীগঞ্জ উপজেলায় রাজারগাঁও ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের খামার বাড়ী এলাকায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে মৃতঃ আঃ রহিম বেপারীর পুত্র, তাজুল ইসলাম নামে এক ব্যাক্তির বসত বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে একই বাড়ির মৃতঃ শাহ আলমের পুত্র মিজান ও রাজ্জাক গংদের বিরুদ্ধে।
হামলাকারীদের বাধা দেওয়ায় তাজুল ইসলাম ও তার এসএসসি পরীক্ষার্থী মেয়ে রেখা আক্তারসহ তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের পিটিয়ে আহত করা হয়। আহতরা হলেন, তাজুল ইসলাম, তার এসএসসি পরীক্ষার্থী মেয়ে রেখা আক্তার, স্ত্রী সুফিয়া বেগম ও তার এক আত্মীয় পারুল বেগম। বর্তমানে তারা চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধিন রয়েছে।
শনিবার (গত ১৯ এপ্রিল) বিকেলে এ ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় তাজুল ইসলাম বাদী হয়ে ৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত কয়েক জনকে অভিযুক্ত করে হাজিগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মৃতঃ শাহ আলমের পুত্র মিজান ও রাজ্জাক গংদের সাথে বসত বাড়ির জায়গা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। এই দ্বন্দ নিরশনের জন্য এলাকার মুরব্বিদের নিয়ে মাপ যোগের কাজ চলমান ছিল। আমিনের বিশেষ প্রয়োজনে এক সপ্তাহ মাপ যোগের কাজ বন্ধ রাখে। পরবর্তীতে তাজুল ইসলামকে না জানিয়ে পুনরায় মাপের কাজ শুরু করে। এ বিষয়ে অভিযোগকারী তাজুল ইসলামের সাথে আলাপকালে তিনি জানায়, প্রথমে আমরা যে দাগে মাপ শুরু করি কিন্তু পরবর্তীতে আমাকে না জানিয়ে, সেই দাগ বাদ দিয়ে অন্য দাগে যেখানে আমার বসত ঘর সেখানে মাপের কাজ শুরু করে।
এক পর্যায়ে তারা আমার বসত ঘর ভাঙচুর করে, আমার দখলীয় জমিতে জোর করে ঘর নির্মাণ করতে আসে।
এতে আমি বাধা দিলে মৃতঃ শাহ আলমের পুত্র মিজান, রাজ্জাক ও তার ভাই লিটন, রিপন, এবং পার্শ্ববর্তী ইউসুফ সহ আরো ২০-২৫ জনের দলবল নিয়ে আমার উপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এতেও তারা ক্ষান্ত হয়নি পরবর্তীতে আমাকে উদ্ধার করতে আমার এসএসসি পরীক্ষার্থী মেয়েসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা এগিয়ে আসলে তাদের উপর ও হামলা চালায়ে তাদেরকে রক্তাক্ত জখম করে। এ সময় আমাদের ডাকচিৎকারে পার্শ্ববর্তী লোকজন এগিয়ে আসলে তারা তখন চলে যায়।
এ সময় এলাকার লোকজন আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে আলীগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যায়। সেখানকার চিকিৎসক তাদের অবস্থা গুরুতর দেখে তাদেরকে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়।
বর্তমানে তারা সকলেই চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
এ বিষয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা হাজীগঞ্জ থানার এস আই সাইখ জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে আমি ঘটনাস্থলে গিয়েছি এবং আহত,র ঘটনাটি সত্য। আমি তাদেরকে আগে চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেই। এমনকি ওই এলাকার শাহাদাৎ মেম্বারকে ডেকে বিষয়টি শান্ত রাখতে বলে আসি। যেহেতু বিষয়টি পারিবারিক ও জমি সংক্রান্ত বিষয় তাই উভয় পক্ষ যদি স্থানীয় মুরুব্বিদের মাধ্যমে সমাধা করতে পারে তাহলেই উত্তম। আর যদি তা সম্ভব না হয় তাহলে পরবর্তীতে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী তাজুল ইসলাম আরো জানান, বিনা দোষে অভিযুক্ত মৃতঃ শাহ আলমের পুত্র মিজান তার ভাই ও সন্ত্রাসী দলবল সাথে নিয়ে আমার ও আমার এসএসসি পরীক্ষার্থী মেয়েসহ পরিবারের অন্যান্যদের উপর যেভাবে হামলা করে আমাদের মারধর করেছে এমনকি আমার বাড়ি ঘর ভাংচুর ও লুটপাট করেছে আমি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে এর সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।