জাপান-বাংলাদেশ গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ব্যবসায়ী সেলিম প্রধানের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রম‚লক রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহার করে সুষ্ঠু বিচার ও মুক্তির দাবি জানিয়েছেন তার স্ত্রী রাশিয়ার নাগরিক আনা প্রধান।
আনা প্রধান মুক্তির দাবি জানিয়ে বলেন, একজন অসহায় মানুষ হিসেবে আপনাদের কাছে এই আবেদন জানাচ্ছি। ২০১৯ সালে আমার স্বামীর নাম হঠাৎ করেই সারা দেশে আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। আমার স্বামীর নাম বাংলাদেশের মানুষ প্রথমে সংবাদমাধ্যমে জেনেছিল একটি বহুল আলোচিত মিথ্যা ক্যাসিনো মামলার মাধ্যমে। সেই সময় তাকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে ষড়যন্ত্র করে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা হয়ে ছিল এবং তার ব্যক্তিগত, সামাজিক ও পেশাগত সুনাম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। ২০১৯ সালের ৩০শে সেপ্টেম্বর, থাই এয়ারওয়েজের ঞএ-৩২২ ফ্লাইট থেকে আমার স্বামীকে রানওয়ে প্লেন থেকে নামিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা ওহঃবৎহধঃরড়হধষ ঈরারষ আরধঃরড়হঙৎমধহরুধঃরড়হ (ওঈঅঙ)-এর নিয়ম অনুযায়ী এটি সম্প‚র্ণ আইনবিরোধী একটি ঘটনা ছিল। এরপর দুঃখজনকভাবে আমার স্বামীকে “ক্যাসিনোর গডফাদার” হিসেবে উপস্থাপন করে বিভিন্ন মাধ্যমে অপপ্রচার চালানো হয় এবং তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। রিমান্ডে রেখে তার কাছ থেকে জোরপ‚র্বক স্বীকারোক্তি নেওয়ার চেষ্টা করা হয় যেখানে বলা হয় যে তিনি নাকি ক্যাসিনো ব্যবসার গডফাদার, আমি চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারি, আমার স্বামী কখনোই ক্যাসিনো কর্মকান্ডে জড়িত ছিলো না, তাকে অন্যায় ভাবে ফাসাঁনো হয়েছিলো, যার দরুন তাকে ৪ বছরেরও অধিক সময় ধরে কারাবরণ করতে হয়ে ছিলো। একজন স্ত্রী হিসেবে আমি দৃড়ভাবে বিশ্বাস করি এবং প্রকাশ্যে বলতে প্রস্তুত যে, তাকে যেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছিল, বাস্তবে তিনি সেই ধরনের অপরাধম‚লক কর্মকাÐের সঙ্গে কখনোই জড়িত ছিলেন না। সেই সময় থেকে আমাদের পরিবারের জীবন সম্প‚র্ণ বদলে যায়। আমার সন্তানরা তাদের বাবাকে হারায়, আমি আমার স্বামীকে হারাই, এবং আমাদের পরিবার স্বাভাবিক জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। আমার স্বামী দীর্ঘ ৪ বছর ১ দিন কারাগারে কাটিয়েছেন। সেই সময়ে তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলো নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে, কিন্তু একজন স্ত্রী হিসেবে আমার বিশ্বাস ছিল এবং আজও আছে যে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করার সুযোগ এবং একটি প‚র্ণাঙ্গ ও ন্যায়সঙ্গত ম‚ল্যায়নের অধিকার প্রাপ্য ছিলেন। সবচেয়ে কষ্টের বিষয় হলো, যে মানুষটি অতীতে কারাবাস, অপবাদ এবং সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হওয়ার অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছেন, তিনি আজও একই ধরনের সংকট থেকে মুক্ত নন। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত মিথ্যা ও সাজানো মামলায় আমার স্বামী চার বছরেরও বেশি সময় কারাগারে কাটিয়েছেন। সেই সময় তিনি রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন ও অবিচারের শিকার ছিলেন বলে আমরা বিশ্বাস করি। কিন্তু আজ অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে লক্ষ্য করছি, যে মানুষটি নিজেই আওয়ামী লীগ সরকারের অন্যায়ের ভুক্তভোগী ছিলেন, তাকেই এখন ‘আওয়ামী লীগ” তকমা দিয়ে একের পর এক মামলায় জড়িয়ে কারাগারে আটক রাখা হচ্ছে। এটি শুধু একজন ব্যক্তির প্রতি অবিচার নয়, বরং সত্য ও ন্যায় বিচারের প্রতি প্রশ্ন সৃষ্টি করে। বর্তমানে তিনি আবার কারাগারে রয়েছেন। আমাদের উদ্বেগ হলো, একটি মামলায় জামিনের প্রক্রিয়া এগোলেই অন্য মামলায় তাকে পুনরায় গ্রেপ্তার দেখানো হচ্ছে। অত্যন্ত দুঃখের বিষয় হলো, যেসব মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে, সেসব মামলার কোনো এজাহারেই তার নাম নেই। আমরা দেখছি যে বিভিন্ন অভিযোগের কারণে তিনি বারবার কারাগারে থেকে যাচ্ছেন। একটি মামলায় জামিনের সম্ভাবনা তৈরি হলেই অন্য মামলায় পুনরায় “শ্যোন অ্যারেস্ট” দেখিয়ে তাকে কারাগারে রাখা হচ্ছে। একজন স্ত্রী হিসেবে আমার প্রশ্ন-কেন বারবার একই মানুষটিকেই এই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে? আমার স্বামী জাপানে বড় হয়েছেন। বিদেশে নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবনযাপনের সুযোগ তার ছিল। কিন্তু তিনি বাংলাদেশে ফিরে এসেছিলেন এই দেশকে ভালোবেসে, দেশের মানুষের জন্য কিছু করার স্বপ্ন নিয়ে। তিনি বিভিন্ন সময় সামাজিক কর্মকাÐে অংশ নিয়েছেন, সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং দেশের বিভিন্ন সংকটে নিজের অবস্থান থেকে সহযোগিতা করার চেষ্টা করেছেন। আমি বলছি না যে কেউ আইনের ঊর্ধ্বে। আমি শুধু বলছি প্রত্যেক মানুষের মতো আমার স্বামীরও ন্যায় বিচার পাওয়ার অধিকার আছে। একজন বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে তারও অধিকার আছে নিরপেক্ষ তদন্ত, স্বচ্ছ বিচার এবং সম্মানের সঙ্গে নিজের অবস্থান তুলে ধরার। আজ আমার সন্তানরা প্রতিদিন জানতে চায় “বাবা কবে ফিরে আসবে?” একজন মা হিসেবে আমিসেই প্রশ্নের উত্তর দিতে পারি না। আমি শুধু তাদের বলি, সত্য একদিন প্রকাশিত হবে। আমি দেশের বিবেকবান মানুষ, মানবাধিকারকর্মী, আইনজীবী, সাংবাদিক, রাজনৈতিক নেতা এবং সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে বিনীত অনুরোধ করছি দয়া করে বিষয়টি নিরপেক্ষ ভাবে দেখুন। প‚র্বধারণা নয়, সত্যকে ম‚ল্যায়ন করুন। অভিযোগের পাশাপাশি বাস্তব ঘটনা গুলোকেও গুরুত্ব দিন। যদি আমার স্বামী দোষী হন, আইন তার নিজস্ব পথে চলুক। কিন্তু যদি তিনি অন্যায়, ভুল তথ্য, অপপ্রচার বা হয়রানির শিকার হয়ে থাকেন, তাহলে সেই সত্যটিও দেশের মানুষ জানুক আমি বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থা, আইনের শাসন এবং মানবাধিকারের প্রতি প‚র্ণ শ্রদ্ধাশীল। তবে একজন স্ত্রী হিসেবে আমার প্রশ্ন যদি কানো নাগরিক ন্যায়বিচার পাওয়ার আগেই বছরের পর বছর কারাগারে কাটিয়ে দেন এবং মুক্তির সুযোগ পেলেও পুনরায় গ্রেপ্তারের সম্মুখীন হন, তাহলে তাঁর এবং তাঁর পরিবারের মানবাধিকার রক্ষার দায়িত্ব কে নেবে? আমি কোনো বিশেষ সুবিধা চাই না। আমি শুধু ন্যায় বিচার চাই। একজন স্ত্রীর শেষ প্রশ্ন-আর কত বছর? আর কত মামলা? আর কত অপেক্ষা? আমি বিশ্বাস করি, সত্যকে দীর্ঘদিন আড়াল করে রাখা যায়, কিন্তু চিরদিন নয়। ন্যায়বিচার বিলম্বিত হতে পারে, কিন্তু একদিন না একদিন তা প্রতিষ্ঠিত হবেই। আমার স্বামী সেলিম প্রধানের জন্য আমি দেশবাসীর দোয়া, সহানুভ‚তি এবং ন্যায় বিচারের দাবি জানাচ্ছি।
প্রসঙ্গত, গত বছরের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর বারিধারার নেক্সাস ক্যাফে প্লেস থেকে সিসা বার পরিচালনার অভিযোগে সেলিম প্রধানকে গ্রেফতার করে পুলিশ। সেই মামলায় তাকে জেলে প্রেরণ করা হয়। পরে ২০ অক্টোবর মাদকের মামলায় ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আফরোজা শিউলি সেলিম প্রধানের জামিন মঞ্জুর করেন। পরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান জোনাল টিমের পুলিশ পরিদর্শক মো. মোজাম্মেল হক মামুন তাকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে (বৈষম্য বিরোধী) অপর একটি মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেন। সেই মামলায় তাকে আওয়ামী লীগের অর্থদাতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আদালত শুনানি শেষে আবেদনটি মঞ্জুর করেন। সেই থেকে এখন পর্যন্ত তিনি জেলে রয়েছেন।
সূত্র জানায়, সেলিম প্রধানকে গত বছরের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর বারিধারার নেক্সাস ক্যাফে প্লেস থেকে সিসা বার পরিচালনার অভিযোগে সেলিম প্রধানকে গ্রেফতার করে পুলিশ। সেই মামলায় তাকে জেলে প্রেরণ করা হয়। পরে ২০ অক্টোবর মাদকের মামলায় ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আফরোজা শিউলি সেলিম প্রধানের জামিন মঞ্জুর করেন। পরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান জোনাল টিমের পুলিশ পরিদর্শক মো. মোজাম্মেল হক মামুন তাকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে (বৈষম্য বিরোধী) অপর একটি মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেন। সেই মামলায় তাকে আওয়ামী লীগের অর্থদাতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আদালত শুনানি শেষে আবেদনটি মঞ্জুর করেন। সেই থেকে এখন পর্যন্ত তিনি জেলে রয়েছেন।
সম্প্রতি সেলিম প্রধান কে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা মামলা দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ তুলে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, ডিএমপি, বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন সহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিতভাবে নানা তথ্য ও প্রমাণাদি সরবরাহ করে লিখিতভাবে অভিযোগ করা হয়েছে। সেই সাথে মিথ্যা মামলা থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়ার জন্য আবেদন করা হয়েছে।
লিখিতভাবে বলা হয়েছে, সেলিম প্রধানের বিরুদ্ধে একের পর এক রাজনৈতিক, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, মিথ্যা ও হয়রানিম‚লক মামলায় জড়িয়ে পুনরায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নতুন মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে -সেলিম প্রধান নাকি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের আর্থিক ও কৌশলগত সহায়তাকারী এবং রাজনৈতিক কর্মকাÐের নির্দেশদাতা। সেলিম প্রধান আওয়ামী লীগসহ কোন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে কোনদিন জড়িত ছিলেন না। তাছাড়া আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিনি চার বছর কারাভোগ করেছেন। যদি তিনি সত্যিই ওই দলের ঘনিষ্ঠ বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি হতেন, তবে একই সরকারের আমলে তাকে কারাবরণ করতে হতো না। এতে প্রমাণ করে মামলার বিষয়টি ষড়যন্ত্রের একটি বড় অস্ত্র।