নারায়ণগঞ্জে ভেজাল ও নিম্নমানের খাদ্যপণ্য উৎপাদন, সংরক্ষণ এবং বিক্রির বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে ২৩টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৬ লাখ ৬ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, জনবল ও পরিধিগত সীমাবদ্ধতার কারণে অভিযান চললেও তা প্রয়োজনের তুলনায় এখনও অপ্রতুল।
জেলা শহরসহ বিভিন্ন উপজেলা এলাকায় নিয়মিত বাজার তদারকি কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বিক্রি, খাদ্যপণ্যে ভেজাল মেশানো, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য প্রস্তুত ও সংরক্ষণ, মূল্য তালিকা না টানানো এবং ভোক্তা অধিকারবিরোধী বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ভেজাল খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অনিয়ম রোধে বাজার, বেকারি, রেস্টুরেন্ট, মিষ্টির দোকান, কনফেকশনারি ও বিভিন্ন খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। অভিযানের সময় অনেক প্রতিষ্ঠানকে সতর্কও করা হয়েছে।
তবে সচেতন নাগরিকদের অভিযোগ, বাজারে এখনও অবাধে নিম্নমানের ও ভেজাল খাদ্যপণ্য বিক্রি হচ্ছে। বিশেষ করে বিভিন্ন উৎসব, মৌসুমি ফলের বাজার এবং খাবার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানে তদারকি আরও বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা। অনেকেই মনে করেন, মাঝে মধ্যে অভিযান চালিয়ে জরিমানা করলেও দীর্ঘমেয়াদে অনিয়ম বন্ধে আরও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।
এ বিষয়ে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর নারায়ণগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক হৃদয় রঞ্জন বণিক বলেন, আমরা নিয়মিত মনিটরিং ও বাজার তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করছি। ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষায় অভিযোগের ভিত্তিতেও অভিযান চালানো হচ্ছে। নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষও খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ক কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। সম্প্রতি যেসব অনিয়মের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, সেগুলোও আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, ভোক্তাদের সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের আইন মেনে ব্যবসা পরিচালনা করতে হবে। ভোক্তা অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তবে সাধারণ ক্রেতারা বলছেন, শুধু অভিযান নয়, নিয়মিত তদারকি, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমেই ভেজাল খাদ্য নির্মূলে কার্যকর ফল পাওয়া সম্ভব। নারায়ণগঞ্জের বাজার ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পাশাপাশি অন্যান্য নিয়ন্ত্রক সংস্থারও আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।