নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগের একটি এলাকায় স্ত্রী ও তিন সন্তানের নিখোঁজের অভিযোগ করেন এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। এ ঘটনায় তিনি সাধারণ ডায়েরি করলে পুলিশ তদন্তে নেমে জানতে পারে ওই নারী তার দেবরের সঙ্গে ধর্মান্তরিত হয়ে বিয়ে করেছেন।
বিষয়টি এখন পারিবারিক পর্যায়ে মিমাংসার চেষ্টা চলছে বলেও জানিয়েছে পুলিশের একটি সূত্র।
স্থানীয় এলাকাবাসী, পুলিশ ও পরিবারটির লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দেওভোগের ভূঁইয়ারবাগ এলাকায় একটি খাবারের হোটেল চালান ওই পরিবারের গৃহকর্তা। তাদের পরিবার সনাতন ধর্মাবলম্বী। গত ২২ মে বিকেলে শহরের পাইকপাড়া শশুরবাড়িতে যাবার কথা বলে তিন সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে বের হন তার স্ত্রী। কিন্তু তিনি সেখানে যাননি।
স্ত্রী ও তিন সন্তান নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি নিয়ে এলাকায় আলোচনার সৃষ্টি করে। পরে এ বিষয়ে ওই ব্যক্তি ফতুল্লা মডেল থানায় একটি নিখোঁজের ডায়েরি করেন। বিষয়টি নিয়ে লেখালেখি হলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও বেশ আলোচনা হয়। পরে পুলিশ তদন্তে নেমে জানতে পারেন, ওই নারী তার দেবরের সঙ্গে চট্টগ্রামে চলে গেছেন। তার সঙ্গেই তিন সন্তানকে নিয়ে গেছেন।
পুলিশ ও পরিবারের সূত্রে জানা যায়, ওই ব্যক্তির ছোটভাই কয়েক বছর আগে ধর্মান্তরিত হয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে। এরপর থেকে তিনি চট্টগ্রামেই থাকতে শুরু করেন।
চট্টগ্রামে দেবরের সঙ্গে ইসলাম ধর্মমতে বিয়ে করার কথাও জানিয়েছে পুলিশ। চট্টগ্রামের ওই বাড়িতে পুলিশ ও পরিবারের সদস্যরাও গিয়েছিলেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহবুব আলম বলেন, “তদন্তকারী কর্মকর্তা চট্টগ্রামেও গিয়েছিলেন। ওই নারী তার ধর্মান্তরিত দেবরকে বিয়ে করেছেন। নিজেও ধর্মান্তরিত হয়ে ইসলাম ধর্মমতে বিয়ে করেছেন। বিষয়টি নিখোঁজ নয়, স্বেচ্ছায়ই ওই নারী তার সন্তানদের নিয়ে চলে গিয়েছিলেন।”
“আমরা জিডির আইনগত ব্যবস্থার জন্য তাদেরকে উদ্ধার করবো। নারী ও তার সন্তানদের উদ্ধারের পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে,” যোগ করেন ওসি।