নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার হরিবাড়ী (মুছাপুর) এলাকায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে এক নারীর বাড়িতে হামলা, মারধর, লুটপাট ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে রোকসানা আক্তার (৪৫) বাদী হয়ে বন্দর থানায় ১০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০/১৫ জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ২ নম্বর বিবাদী মোতাহার হোসেনের সঙ্গে বাদীপক্ষের বাড়ির জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছিল। এর জেরে গত ১৮ মে রাত আনুমানিক ৮টার দিকে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র, ধারালো দা, লোহার রড, বাঁশের লাঠি ও কাঠের ডাসা নিয়ে বাদীর বাড়িতে অনধিকার প্রবেশ করে হামলা চালায়।
বাদী রোকসানা আক্তার অভিযোগে উল্লেখ করেন, হামলাকারীরা তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করলে তিনি বাধা দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধভাবে তাদের পরিবারের সদস্যদের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলায় তার মেয়ে সুমাইয়া আক্তার (২৮) লোহার রডের আঘাতে গুরুতর আহত হন। এছাড়া তার ছেলে মো. খালেদ (১৫)-কে হত্যার উদ্দেশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এসময় পরিবারের সদস্যদের রক্ষা করতে এগিয়ে আসেন স্বামীর বন্ধু হাজী হাবিবুর রহমান বাদশা (৫৪)। তাকেও মারধর করে আহত করা হয় বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, হামলার সময় অভিযুক্তরা বসতঘরে থাকা নগদ ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং প্রায় ৩৫ ভরি স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যায়। যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ৮০ লাখ টাকা। এছাড়া ঘরে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়ে প্রায় ১৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি করা হয়েছে বলেও দাবি করেন বাদী।
হামলার সময় পরিবারের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন দিলে বন্দর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
আহতদের স্থানীয়দের সহায়তায় বন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গোলাম মুক্তার আশরাফ উদ্দিন জানান, আমরা লিখিত একটি অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।