নারায়ণগঞ্জ শহরের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সড়ক ও ফুটপাত থেকে উচ্ছেদের এক সপ্তাহ পেরোতেই পুনর্বাসনের দাবিতে সড়কে নেমে এসেছেন হকাররা। তারা শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও নগরভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে সমাবেশ করেছেন। এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতে বিকেলে হকার উচ্ছেদে ভলেন্টিয়াররা সড়কে নামলে হকাররা হামলা চালায়। এ সময় তাদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। ফলে এ নিয়ে নগরবাসীর মধ্যে ফের শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সোমবার (২০ এপ্রিল) বেলা এগারোটার দিকে শহরের চাষাঢ়ায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জড়ো হন কয়েকশʼ হকার। পরে তারা ‘পুনর্বাসনের আগে হকার উচ্ছেদ চলবে না’ – স্লোগানে মিছিল নিয়ে নিতাইগঞ্জে নগরভবনের সামনে সমাবেশ করেন।
নারায়ণগঞ্জ জেলা হকার ঐক্য পরিষদের ব্যানারে এ মিছিলে হকারদের নেতৃত্ব দেন জাতীয়তাবাদী হকার্স ইউনিয়ন দলের সভাপতি কেএম মিজানুর রহমান রনি ও জেলা হকার ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক আব্দুস সালাম। এতে আরও উপস্থিত জেলা হকার ঐক্য পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. শুক্কুর, হকার্স ইউনিয়ন দলের মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. আলাউদ্দিন, সিনিয়র সহসভাপতি সাইফুল ইসলাম পাটোয়ারী, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সুমন, দপ্তর সম্পাদক রনি আহমেদ অপু প্রমুখ।
সংহতি জানিয়ে হকারদের মিছিলে ছিলেন গণসংহতি আন্দোলনের নারায়ণগঞ্জ জেলার নির্বাহী সমন্বয়কারী অঞ্জন দাস ও বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন।
হকাররা মিছিল শেষে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান ও নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালামের কাছে ৫ দফা দাবিতে একটি স্মারকলিপিও দেন।
এতে তারা হকারদের পুনর্বাসন ছাড়াউচ্ছেদ না করা এবং দিনের একটি নির্দিষ্ট সময় ও ছুটির দিনে ফুটপাতের একাংশে বসার সুযোগ করে দেবার দাবি জানান।
এদিকে দুপুর গড়িয়ে বিকেল হতেই শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কের বিভিন্ন স্থানে হকারদের ফুটপাত দখল করে বসতে দেখা যায়। এ সময় হকার উচ্ছেদে ভলেন্টিয়াররা মাঠে নামলে তাদের সাথে কথা কাটাকাটি হয়। পরে হকারদের একটি অংশ গিয়ে একটি রেস্তোরার ভেতরে প্রবেশ করে ভলেন্টিয়ারদের উপর হামলা চালায়। এ নিয়ে এনসিপির নেতা তনু তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।
এর আগে, গত ১৩ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন ঘোষণা দিয়ে শহরের বঙ্গবন্ধু সড়ক, নবাব সলিমউল্লাহ সড়ক ও নবাব সিরাজউদ্দোল্লা সড়কের হকারদের উচ্ছেদে নামে। যদিও সেদিন হকারদের বড় একটি অংশ আগেই নিজেদের ব্যবসা গুটিয়ে নেয়। সিটি প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেনের নেতৃত্বে জেলা পুলিশ, র্যাব, আনসার ও স্কাউট সদস্যরা উচ্ছেদ অভিযানে অংশ নেন।বিএনপি, গণসংহতি আন্দোলনসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দলের নেতারাও সেদিন উচ্ছেদে ঐকমত্য পোষণ করেন।
গত কয়েকদিন সড়ক ও ফুটপাতে সিটি কর্পোরেশনের টানা উচ্ছেদ অভিযান চলছে। হকাররা কেউ কেউ বসার সুযোগ খুঁজেও সিটি কর্পোরেশনের কর্মী ও পুলিশ সদস্যদের তৎপরতা তা হয়ে ওঠেনি। এ পরিস্থিতি চলেছে গত এক সপ্তাহ। এক সপ্তাহ পেরোনোর পরই সোমবার পুনর্বাসন না করে উচ্ছেদ না করার দাবিতে মিছিল করলেন হকাররা।
তারা বলেন, গত ১৩ এপ্রিল সিটি কর্পোরেশন পুনর্বাসনের কোনো ব্যবস্থা না করেই মহানগরের ফুটপাত থেকে হকারদের উচ্ছেদে অভিযান চালায়। এতে হঠাৎ করেই কর্মহীন হয়ে পড়েন হাজারো হকার। অনেক পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছে। এ নিয়ে অনেকের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।