নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার থানা থেকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে গ্রেফতার করা আসামি ইসমাঈল (৩০) পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় উপ-পরিদর্শক (এসআই) জহিরুল ইসলামকে ক্লোজড (প্রত্যাহার) করা হয়েছে। এছাড়া এই ঘটনায় পালিয়ে যাওয়া আসামিকে পুনরায় গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
বুধবার (১ এপ্রিল) বিকেলে তাকে ক্লোজড করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নারায়ণগঞ্জে সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (গ-সার্কেল) মেহেদী ইসলাম। পরে তাকে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জে সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (গ-সার্কেল) মেহেদী ইসলাম বলেন, আড়াইহাজার থানা থেকে আসামি পলায়নের ঘটনায় জহিরুল ইসলামকে ক্লোজড করা হয়েছে। এছাড়া এই ঘটনায় পলাতক আসামিকেও তিনি গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছেন। এ ঘটনায় তদন্ত চলমান রয়েছে। তার বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমানিত হলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি, অসাবধানতা বশত অবহেলার কারণে এ ঘটনাটি ঘটেছে। তাছাড়া তিনি এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নন। ফলে সব দিক বিবেচনা করে পুরো বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।
এর আগে, গত ৩১ মার্চ রাত আনুমানিক পৌনে ১১টার দিকে আড়াইহাজার থানার এসআই জহিরুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম পলাতক আসামি ইসমাঈল (৩০) কে আড়াইহাজার থানার উচিৎপুর বাজার হতে গ্রেফতার করে। পরে গ্রেফতারকৃত আসামিকে ১ এপ্রিল সকালে আদালতে সোপর্দ করা হয়।
প্রসঙ্গত, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে গত ২৩ ও ২৪ মার্চ আড়াইহাজার উপজেলার খাগকান্দা ইউনিয়নের চরকমলাপুর এলাকায় ধারালো অস্ত্রসহ হামলার ঘটনা ঘটে। এতে একাধিক ব্যক্তি গুরুতর আহত হন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বিল্লাল হোসেন বাদী হয়ে ১৩ জনকে আসামি করে আড়াইহাজার থানায় মামলা করেন।
সেই মামলার এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন- আড়াইহাজার থানার চরকমলাপুর এলাকার আফর উদ্দিনের ছেলে আব্দুল্লাহ (৩৭), মাহাবুল্লাহর ছেলে মাছুম (৩৫), মৃত আব্দুল করিমের ছেলে ইয়াহিয়া (৫০), মোরতব আলীর ছেলে ইয়ানুছ (৪০), হাবিবুল্লাহর ছেলে ইসমাঈল (৩০), আমির আলীর ছেলে জালাল (২৮), আব্দুল করিমের ছেলে জাকারিয়া (৪৮), ইউনুসের ছেলে ইয়াছিন (২০), মৃত আব্দুস সালামের ছেলে হাবিবুল্লাহ (৬০), মৃত আব্দুস সালামের ছেলে মাহাবুল্লাহ (৫৫), মোহাম্মদের ছেলে রোমান (২৬), তারা মিয়ার ছেলে সবুজ (৩০) এবং জাকারিয়ার ছেলে জুয়েলসহ (২২) অজ্ঞাত আরও ৪ থেকে ৫ জন।
এই মামলার পর সোমবার বিকেলে আসামি ইসমাইলকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসেন আড়াইহাজার থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অজিত কুমার। পরে সেকেন্ড অফিসার এসআই জহিরুল ইসলামের রুমে বসালে সেখান থেকে আসামি ইসমাঈল কৌশলে পালিয়ে যায়।