1. voiceofnarayanagnj24@gmail.com : Salim Ahmed Dalim : Salim Ahmed Dalim
  2. info@ajkerdeshkantho.com : Rabbi630 :
ঘুষের টাকা ফেরত দিয়ে মিথ্যা সাক্ষ্য দিতে হুমকি, এএসআই অবরুদ্ধ - Ajker Deshkantho
বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৪৪ পূর্বাহ্ন

ঘুষের টাকা ফেরত দিয়ে মিথ্যা সাক্ষ্য দিতে হুমকি, এএসআই অবরুদ্ধ

সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত : বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬

আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ঘুষ নিয়েছেন নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে জহিরুল ইসলাম নামের এক পুলিশ কর্মকর্তা। পরে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ করায় ধাপে ধাপে তিনি সেই টাকা ফেরত দিচ্ছিলেন। কিন্তু ভুক্তভোগীকে মিথ্যা সাক্ষ্য দিতে চেষ্টা করার অভিযোগে ওই পুলিশ কর্মকর্তা (এএসআই) জনতার হাতে অবরুদ্ধ হয়েছেন। পরে থানার হস্তক্ষেপে তিনি উদ্ধার হন। সোমবার (৩০ মার্চ) দুপুরে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের চৌধুরীবাড়ী বাজারে এই ঘটনা ঘটে। তবে ঘটনাটি ৩১ মার্চ সকালে প্রকাশ পেয়েছে।

অবরুদ্ধ হওয়া পুলিশ কর্মকর্তা এএসআই পদে বর্তমানে ফতুল্লা মডেল থানায় কর্মরত রয়েছেন। তিনি ইতিপূর্বে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় কর্মরত থাকাকালে ঘুষ আদায় করেছেন বলে অভিযোগ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এএসআই জহিরুল ইসলাম সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় কর্মরত থাকাকালে স্থানীয় এক বৃদ্ধ ইসহাক মিয়ার কাছ থেকে নগদ ১ লাখ টাকা এবং ৩২ হাজার টাকার একটি মোবাইল ফোন ঘুষ হিসেবে নেন। বিষয়টি নিয়ে পুলিশ সদর দপ্তরে (হেডকোয়ার্টার্সে) অভিযোগ করা হলে তিনি ভুক্তভোগীকে টাকা ফেরত দিচ্ছিলেন এবং মিথ্যা সাক্ষ্য দিতে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেন।

ভুক্তভোগী ইসহাক মিয়ার ছেলে মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘৩ নভেম্বর পুলিশ কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম আমাদের বাসায় এসে আমার বাবাকে আওয়ামী লীগ নেতা দাবি করে পাঁচ-ছয়টি মামলার ভয় দেখিয়ে জিম্মি করেন। সেদিন তিনি আমাদের ওয়ার্ড কাউন্সিলরের সঙ্গে আমার বাবার থাকা ছবি দেখিয়ে গ্রেপ্তারের ভয় দেখান এবং গ্রেপ্তার এড়াতে মোটা অঙ্কের অর্থ দাবি করেন। তখন আমরা মামলার ভয়ে নিরুপায় হয়ে অনেক দর-কষাকষির মাধ্যমে বাধ্য হয়ে তাঁকে নগদ ১ লাখ টাকা দিই। দাবি করা টাকা নেওয়ার একপর্যায়ে তিনি একটি মোবাইল ফোনও দাবি করেন এবং তাঁর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ৫ নভেম্বর তাঁকে ৩২ হাজার টাকায় একটি মোবাইল ফোন কিনে দিই।’

সাইফুল ইসলাম আরও বলেন, ‘এই ঘটনা নিয়ে পরে পুলিশ সদর দপ্তরে অভিযোগ দিলে তদন্ত কর্মকর্তারা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং আমরা বিস্তারিত উপস্থাপন করি। এরপরই জহিরুল ইসলাম আমাদের সঙ্গে কয়েক দফায় দেখা করে ম্যানেজ করার চেষ্টা করেন। তিনি দুই দফায় আমাদেরকে ৯০ হাজার টাকা ফেরতও দেন। হঠাৎ আজ এসে বাকি টাকা ফেরতসহ প্রয়োজনে বাড়তি টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেন এবং আমাদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনাটি মিথ্যা বলে উপস্থাপন করার প্রস্তাব করেন। তাঁর এমন প্রস্তাবকে আমরা প্রত্যাখ্যান করলে আমাদের ওপর চড়াও হয়ে হুমকি দেন। এরপর একপর্যায়ে স্থানীয় বাসিন্দারা এসে ঘটনা সম্পর্কে শুনে তাঁকে অবরুদ্ধ করেন।’
এ বিষয়ে বক্তব্যের জন্য অভিযুক্ত এএসআই জহিরুল ইসলামকে ফোন করা হলে তিনি তাঁর স্যারের রুমে অবস্থান করছেন বলে কল কেটে দেন। পরবর্তী সময়ে আর যোগাযোগ করেননি।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল বারিক বলেন, ‘ঘুষের বিষয়টি আমার জানা নেই। গতকাল ফতুল্লার এক এএসআইয়ের সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের ঝামেলা হলে আমাদের থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাসুম বিল্লাহ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উভয়ের সঙ্গে বসে ওই কর্মকর্তাকে নিয়ে বেরিয়ে আসেন। জহিরুল ইসলাম সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় থাকা অবস্থায় আমি ছিলাম না এবং ঘুষ নেওয়ার বিষয়টি আমার জানা নেই।’
বক্তব্যের জন্য ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং পরিদর্শককে (তদন্ত) একাধিকবার ফোন করা হলেও তাঁরা ধরেননি।

পুলিশ সদর দপ্তর থেকে তদন্তের দায়িত্ব পাওয়া নারায়ণগঞ্জ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গ সার্কেল) মেহেদী ইসলাম বলেন, ‘হেডকোয়ার্টার্স থেকে জহিরুল ইসলামের অভিযোগ তদন্তের দায়িত্ব আমার কাছে এসেছে। তাঁর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের তদন্ত চলমান আছে। তবে গতকাল অবরুদ্ধের বিষয়টি আমার জানা নেই। হয়তো তিনি ভুক্তভোগী পরিবারকে ম্যানেজ করতে গেছেন।’

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন
© ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | দৈনিক আজকের দেশকন্ঠ
পোর্টাল বাস্তবায়নে : আজকের দেশকন্ঠ আইটি