নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার প্রতিবাদে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন ব্যবসায়ীরা। রোববার (২৯ মার্চ) দুপুর ১টার দিকে সাইনবোর্ড এলাকায় এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
জানা যায়, বকেয়া বিদ্যুৎ বিলের কারণে সকাল ১০টার দিকে ডিপিডিসি কর্তৃপক্ষ মিতালি মার্কেটের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। এর প্রতিবাদে মার্কেটের দোকানদার, ব্যবসায়ী ও কারখানা মালিকরা মহাসড়ক অবরোধ করেন।
ব্যবসায়ী হাসান আল মামুন বলেন, “মিতালি মার্কেটটি এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ পাইকারী বাজার। এখানে ৬ হাজারের বেশি দোকান রয়েছে। হঠাৎ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করায় সব কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।”
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, তারা নিয়মিত বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করলেও দোকানদার সমিতির কর্মকর্তারা ডিপিডিসির কাছে বিল জমা দেননি। ফলে পুরো মার্কেট বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়ে।
এছাড়া ব্যবসায়ীরা দাবি করেন, ২০১৮ সালের পর থেকে মার্কেট কমিটির আর কোনো নির্বাচন হয়নি। বর্তমান কমিটির বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তারা বলেন, অবৈধভাবে গঠিত কমিটি বিদ্যুৎ বিলের অর্থ আত্মসাৎ করছে এবং ব্যবসায়ীদের জিম্মি করে রাখছে।
ব্যবসায়ী মঞ্জু অভিযোগ করেন, শ্রম অধিদপ্তরের কিছু কর্মকর্তার যোগসাজশে অর্থের বিনিময়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগও দেওয়া হয়েছে এবং ইতোমধ্যে তদন্ত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপন না করলে সংশ্লিষ্টদের মার্কেটে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হবে।” একই সঙ্গে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠনের দাবি জানান ব্যবসায়ীরা।
তবে এ বিষয়ে বর্তমান কমিটির সভাপতি জামান মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন ফারুক বলেন, “আমি গ্রামের বাড়িতে আছি। মার্কেটের বিষয়ে বিস্তারিত জানি না।”
অন্যদিকে কমিটির কার্যকরী সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুন দাবি করেন, “ব্যবসায়ীরা বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করছেন না। বকেয়া থাকায় ডিপিডিসি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে। এটি একটি পক্ষের উসকানিতে করা আন্দোলন।”
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি মহম্মদ আবদুল বারিক বলেন, “মহাসড়ক অবরোধের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপনের আশ্বাস দিলে ব্যবসায়ীরা অবরোধ তুলে নেন।”