নারায়ণগঞ্জের কাশিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আরিফ মন্ডল ওরফে ‘ফেন্সি আরিফের বিরুদ্ধে বিতর্ক যেন থামছে না। একের পর এক তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উঠে আসছে। এবার সদর উপজেলার ‘কাশীপুর হাট’ থেকে মোটা অংকের টাকা আয়ের পরও লভ্যাংশ থেকে সাধারণ শেয়ারধারীদের বঞ্চিত করার অভিযোগ উঠেছে। সমস্ত লভ্যাংশ আরিফ মন্ডল গংয়ের পকেটে ঢুকেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
আরিফ মন্ডল হাট পরিচালনা দায়িত্বে ছিলেন। সেই সুবাদে তার সিন্ডিকেটের লোকজন পুরো হাটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়।
জানা যায়, কাশীপুর হাটের শেয়ার ক্রয়ের মাধ্যমে বিপুল সংখ্যক সাধারণ ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা বিনিয়োগ করেছিলেন। আশানুরূপ বেচাকেনা এবং বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আদায়ের পর বড় অংকের লভ্যাংশ পাওয়ার কথা ছিল সবার। কিন্তু হাট শেষে হিসাব-নিকাশের সময় দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। সাধারণ শেয়ারধারীদের পাওনা বুঝিয়ে না দিয়ে কৌশলে তা আটকে দেয় কাশিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আরিফ মন্ডল গং।
হাটের ইজারা ও ব্যবস্থাপনার সাথে জড়িত বিএনপির একাধিক তৃণমূল নেতাকর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, দলের নাম ভাঙিয়ে এবং ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে আরিফ মন্ডল পুরো হাটের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেয়। সাধারণ নেতাকর্মীরা মাঠ পর্যায়ে দিনরাত পরিশ্রম করলেও লভ্যাংশ বণ্টনের সময় তাদের পুরোপুরি এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে।
এক ভুক্তভোগী কর্মী আক্ষেপ করে বলেন, “আমরা রক্ত-ঘাম এক করলাম, আর লভ্যাংশ লুটে নিল আরিফ-রাশেদ গং। দল ক্ষমতায় বা সুবিধাজনক অবস্থানে থাকলেও আমাদের মতো কর্মীদের কপাল সবসময়ই পোড়ে।
একটি নির্দিষ্ট সূত্র বলছে, শেয়ারধারীদের ক্রমবর্ধমান চাপ এবং নেতাকর্মীদের ক্ষোভের মুখে পড়ে নিজেদের বাঁচাতে নতুন চাল চালছে আরিফ- রাশেদ সিন্ডিকেট। লভ্যাংশ আত্মসাতের পুরো দায় তারা এখন সুকৌশলে হাটের সভাপতি লাভলুর ওপর চাপানোর চেষ্টা করছে। এলাকায় রটানো হচ্ছে যে, সভাপতি লাভলুর অব্যবস্থাপনা এবং একক সিদ্ধান্তের কারণেই নাকি শেয়ারধারীরা টাকা পাচ্ছেন না।
তবে হাটের সাধারণ অংশীদারদের দাবি, কাশিপুর ইউনিয়ন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি লাভলুকে বলির পাঁঠা বানিয়ে আরিফ- রাশেদ মূলত নিজেদের দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের ঘটনা আড়াল করতে চাইছে।
এখানে উল্লেখ্য যে, কিছুদিন পূর্বে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে কাশিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো.আরিফ মন্ডলকে ফেন্সিডিলসহ আটক করা হয়েছে এমন একটি ছবি পুরো ফেসবুক জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। ওই ছবিতে দেখা যাচ্ছে, দুই পাশে দুইজন পুলিশ সদস্য এবং টেবিলের উপর সাজানো ফেন্সিডিলের বোতলের সামনে আরিফ মন্ডলসহ অপর এক যুবককে।
জানা গেছে, এক সময়ে কাশীপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি থাকাবস্থায় কাশীপুরের ইতিহাসে সব থেকে বড় ফেন্সিডিলের চালান নিয়ে গ্রেফতার হয়েছিলেন আরিফ মন্ডল। তবে সেই সময়ের এই ছবি অনেক দিন পর ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।
এছাড়া আরিফ মণ্ডলের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ রয়েছে। নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার কাশীপুর ইউনিয়নে ব্যবসায়ী ও সাধারণ জনগণের কাছে এক মূর্তিমান আতঙ্কের নাম কাশীপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আরিফ মন্ডল। জুলাই বিপ্লবের পর শেখ হাসিনা সরকার পদত্যাগ করে দেশ ছাড়লে কাশীপুর জুড়ে তাণ্ডব চালাতে শুরু করে আরিফ ও তার অনুসারীরা। এদিকে কাশীপুরের ৯টি ওয়ার্ড জুড়ে মিনি ফ্যাক্টরী, বড় বড় গার্মেন্টস, ইট-বালুর ব্যবসা, ডিস-ইন্টারনেট, ভূমিদস্যূ সিন্ডিকেট, ২টি ইজারাদারকৃত বাশেঁর ব্রিজ, ওরিয়ন, বর্জ্য খাতের টাকা, বিভিন্ন সেক্টর থেকে চাঁদাবাজি সবই বর্তমানে তার নিয়ন্ত্রণে। ফতুল্লায় মাটির নিচের কোটি কোটি টাকার সরকারি ডেড ক্যাবল চুরি করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এভাবে ধরাকে স্বরাজ্ঞান করে চলছেন এই বিএনপি নেতা ও তার অনুসারীরা।